ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে ভয়ংকর ঘুস কেলেঙ্কারী: অবসরে গিয়েও ৩ দিনে ৩৪ কোটি টাকার ঘুষ নিয়েছেন উপ-পরিচালক আব্দুল মালেক!
রোস্তম মল্লিক
অবসরে গিয়েও প্রতিদিনের মতো অফিসে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসে রীতিমতো ফাইল স্বাক্ষর করছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক আব্দুল মালেক। এমনকি সন্ধ্যার পরেও গোপনে অফিসের সিস্টেম ফাইলের কাজ করছেন তিনি। আর এসব ফাইলে স্বাক্ষর করা হয়েছে ১৫ তারিখের আগের তারিখ বসিয়ে। এতে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২১/০৫/২০২৪ইং তারিখ সরেজমিনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়ে ফাইল ডেসপাস শাখায় রেজিস্টার খাতা দেখার চেষ্টা করা হয়। কিš‘ কোনো ভাবেই রেজিষ্টার খাতা দেখাতে রাজি হয়নি । এর আগে ১৯/০৫/২০২৪ইং অধিদপ্তরে গিয়ে আব্দুল মালেককে স্বশরীরে অফিস করার সত্যতা মেলে। জানা যায়, গত ১৫ মে অবসরে গেছেন এ আব্দুল মালেক। এ অবসরও তাকে অফিস করা বন্ধ করতে পারছে না। অফিস যেন এক অদৃশ্য মায়ায় আবদ্ধ করে রেখেছে তাকে। ১৬ মে থেকে ২০ মের মধ্যে অফিস খোলা ছিল মাত্র তিন দিন। আর এ তিন দিনে ১৭২টি প্রোজেক্ট ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এসব ফাইলে স্বাক্ষর করা হ”েছ ১৫ তারিখের আগের তারিখ বসিয়ে। প্রতিটি ফাইলের জন্য নিয়েছেন ২০ লাখ টাকা করে। তাছাড়া ছোটখাট ফাইলও ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর করেন না তিনি। অবসরের পরে এ তিন দিনে অফিস করে সব মিলিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩৪ কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চিঠি বা ফাইল স্বাক্ষরের পর অধিদপ্তরের ডেসপাস শাখায় স্মারক নম্বর বসিয়ে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিš‘ অভিযোগ পাওয়া যায়, পেছনের তারিখ বসিয়ে যেসব ফাইল স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেগুলো বিতরণ শাখা থেকে পেছনের তারিখ বসিয়ে হস্তান্তর করার জন্য রেজিস্টার খাতা ফাঁকা রাখা হয়েছে। ১২ মে থেকে ১৫ মে তারিখের রেজিস্টারে যেসব জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে সেখানে পুরোনো তারিখ বসিয়ে ফাইলগুলো হস্তান্তর করা হবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রেজিস্টার খাতা দেখার চেষ্টা করা হয়। কিš‘ কোনোভাবেই ওই খাতা দেখাতে রাজি হয়নি অধিদপ্তরের মিডিয়া মুখপাত্র ও পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। এমনকি অবসর গ্রহণের পর আব্দুল মালেকের অফিস করার বিষয়েও কর্তৃপক্ষ কিছু জানতে না বলেও জানান এ কর্মকর্তা। এসব বিষয়ে কথা বলতে মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চাইলে অফিসে থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রোববার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়ে সরাসরি আব্দুল মালেকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক দেখে কথা না বলে দ্রত সটকে পড়েন তিনি।
ড্রাগের তথ্য মতে, আব্দুল মালেকের অনৈতিক কর্মকান্ডে ডিজি জড়িত থাকা অস্বীকার করা যাবে না। কেননা, তার আদেশ ছাড়া এতো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্বাক্ষর করার ক্ষমতা কারো থাকার নয়। উল্লেখ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে বছরের পর বছর অনিয়ম ও দুর্নীতি চলমান থাকলেও মন্ত্রণালয়ের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের কল্যাণে সবাই ধোঁয়া তুলসী পাতা ধারণ করে নিত্যকার অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যা”েছন। এমনকি, মিডিয়ার জনৈক ব্যক্তি ২৫টির মতো অভিযুক্ত কোম্পানীর বিরুদ্ধে স্বচিত্র অভিযোগ জমা দিলেও রংপুরের ১টি কোম্পানীকে রক্ষা করতে গিয়ে বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যব¯’া নিতে দেয়নি এই আব্দুল মালেক। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তিনি নিজেকে সাধু বানিয়ে ডিজির মাধ্যমে এই অর্থ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। শুধু কি এই আব্দুল মালেক, না। ২০২৪ সালে অবসরে যাওয়া নুরুল আলম, মোজাম্মেল হোসেন ও আকিব হোসেনও একইভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ধন-সম্পদের পাহাড় বানিয়ে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেহেতু দুদক এর উচিৎ ড্রাগ প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত সাপেক্ষ আব্দুল মালেক কর্তৃক স্বাক্ষরিত ফাইল বাতিলের সুপারিশ করা।
এ ছাড়া উপ-পরিচালক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ অর্জন ও বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে।











