০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ: বিসিকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা-অযোগ্যতা ও অসদাচরণের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

বিসিকের কর্মীব্যবস্থাপনা শাখার শাখা প্রধান এবং কর্মীব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার গুরুতর অসদাচরণ বিষয়ে ২০ এপ্রিল, ২১ এপ্রিল এবং ২২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে মোঃ নাজমুল হোসেন এবং মোঃ আরিফ হোসেন এর অদক্ষতা, অযোগ্যতা এবং অপেশাদারসুল্ভ আচরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে সরকারী নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাছারি মনোভাব প্রদর্শন, সরকারী দপ্তরে অসস্তোষ সৃষ্টি, বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দ্যেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্যমূলক কাজ, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা প্রভৃতি। প্রচলিত নিয়মে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবাদ না পাঠালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সত্য ও সঠিক বলে প্রমাণিত হওয়ার বিধান আছে। যার দরুন প্রকাশিত সংবাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অনস্বীকার্য। তথাপিও বিসিক কর্তৃপক্ষের তরফ হতে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি গুরুতর অসদাচরণের সাথে যুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে ১৯২টি পদের ছাড়পত্র চেয়ে যে পত্রটি শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে উক্ত পত্রের অগ্রায়ন পত্র থেকে শুরু করে সংযুক্ত ১০৫ পাতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রতি পাতায় মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ফরওয়ার্ডিং লেটারের শুরুতে উল্লিখিত বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ-যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বিসিকের রাজস্ব খাতের ৩য়-১৬তম গ্রেডের ৪১(একচল্লিশ) ক্যাটাগরীর ১৯২(বিরানব্বই) টি শুন্য পদ পূরণের ছাড়পত্র প্রদান। ছাড়পত্র প্রদান বিসিক করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেখানে ছাড়পত্র প্রদানের অনুরোধ অথবা প্রসঙ্গে লিখা থাকা একান্ত আবশ্যক বলে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। যার মধ্যে বিভ্রান্তিকর এবং ভুল রয়েছে অংকে ১৯২ লিখা হলেও বানান লিখা হয়েছে শুধুমাত্র বিরানব্বই। তাছাড়া বিষয়ের পরে ১ম প্যারায় উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছেযে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের লিখে (বিসিক) লিখাটি কোনমতেই সঠিক নয়। দ্বিতীয় লাইনে ৪১ ক্যাটাগরির অংকে ১৯১ লিখে বানান লিখা হয়েছে একশত বিরানব্বই টি পদ শুন্য রয়েছে। ১ম প্যারার নীচে ছকের ৪নং কলামে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত শুন্যপদে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখ থাকার কথা সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত শুন্য পদের সংখ্যা।
ফরওয়ার্ডিং লেটারের ৩৭নং ক্রমিকে উল্লিখিত ইলেকট্রিশিয়ান পদটি আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০১৮ এর বিধানমতে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণযোগ্য হওয়া স্বত্তেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি নিয়োগের কোটায় নিয়োগের ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে, যা সরকারী নির্দেশনা অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্রমিক নং-৩৯ এ উল্লিখিত করণিক তথা মুদ্রাক্ষরিক পদটির পদনাম পরিবর্তন হয়ে অফিস সহকারী কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক করার সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাদের খেয়াল খুশীমতো পদনাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্রায়ন পত্রের ৩য় প্যারায় দেশের শিল্পোয়নে বিসিকের অবদানের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে উল্লেখ থাকার কথা শিল্পায়নে শব্দটির। ৪র্থ প্যারায় ৩য়-১৬ গ্রেডের ৪০(চল্লিশ) ক্যাটাগরি ১৯১ (একশত একানব্বই) টি শুন্যপদের উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ৪১ ক্যাটাগরীর ১৯২টি পদের অথচ ৪র্থ প্যারায় ৪০ ক্যাটাগরীর ১৯১টি পদের ছাড়পত্রের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বিভ্রান্তিকর এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।
তাছাড়া বিভিন্ন পদে বিসিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদসংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিসিকের অস্তিত্ব নিয়ে টান দেয়ার শামিল। বিসিকের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিসিকের জনবলের সংখ্যা নির্ধারণের এখতিয়ার শুধুমাত্র সরকারের তথা সরকারের পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের। বিসিক কর্তৃপক্ষ বা বিসিকের কোন কর্মকর্তা পদ সংখ্যা কমানোর বা বাড়ানোর কোন ক্ষমতা সংরক্ষণ করে না।
জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত ফরওয়ার্ডিং লেটারের সাথে সংযুক্ত রাজস্ব খাতের শুন্য পদ পূরণের তথ্যাবলী সরবরাহের ছক এর ১ হতে ৪১ ক্রমিকের মন্তব্য (বিসিক প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ অনুযায়ী) লিখাটি কোনমতেই সঠিক নয়। বিসিক প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ অনুযায়ী লিখাটির উল্লেখ থাকার কথা ক্রমিক নং ১-৪১ এর প্রতিটির মন্তব্যের কলামে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে ক্রমিক নং-১ হতে ৪১ এবং সর্বশেষ মোট এর মন্তব্য কলামে ৪২ বার প্রকৃত শব্দটির বানান পকৃত লিখা হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ বহন করে প্রস্তাব প্রণয়নকারী মোঃ আরিফ হোসেন এবং শাখা প্রধান মোঃ নাজমূল হোসেন এর যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা এবং পেশাদারসুল্ভ মনোভাবের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা দেখিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করেছে-যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
বিসিক কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিকের পরিচালক প্রশাসন অদক্ষ, অযোগ্য, সরকারী দায়িত্ব পালনে উদাসীন, আপাদমস্তক সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত উক্ত দুজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদেরকে বহাল রেখে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, তাদের চেয়ে যোগ্য কোন কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নয়। সোজা কথায় উক্ত দুজন কর্মকর্তার পক্ষ অবলম্বন করে কাজ করে যাচ্ছেন বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিক পরিচালক প্রশাসনসহ বিসিক পরিচালক পর্ষদের সদস্যগণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভের সুরে জানান যে, শুধুমাত্র নিয়োগ বাণিজ্যের কাজটি মসৃণ রাখার জন্য অপকর্মে সিদ্ধহস্ত অযোগ্য দুজন কর্মকর্তাকে বহাল রেখে কাজ করতে আগ্রহী বিসিক প্রশাসন। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে সুশাসন ও আইনের শাসন। যেমনি নির্বিকার বিসিক প্রশাসন তেমনি নির্বিকার বিসিকের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের অপরাপর মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পদক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন মর্মে অভিমত প্রকাশ করেছেন সচেতন সমাজ।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪
৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ: বিসিকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা-অযোগ্যতা ও অসদাচরণের অভিযোগ!

আপডেট সময় ০৭:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪

বিশেষ প্রতিবেদক

বিসিকের কর্মীব্যবস্থাপনা শাখার শাখা প্রধান এবং কর্মীব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার গুরুতর অসদাচরণ বিষয়ে ২০ এপ্রিল, ২১ এপ্রিল এবং ২২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে মোঃ নাজমুল হোসেন এবং মোঃ আরিফ হোসেন এর অদক্ষতা, অযোগ্যতা এবং অপেশাদারসুল্ভ আচরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে সরকারী নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাছারি মনোভাব প্রদর্শন, সরকারী দপ্তরে অসস্তোষ সৃষ্টি, বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দ্যেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্যমূলক কাজ, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা প্রভৃতি। প্রচলিত নিয়মে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবাদ না পাঠালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সত্য ও সঠিক বলে প্রমাণিত হওয়ার বিধান আছে। যার দরুন প্রকাশিত সংবাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অনস্বীকার্য। তথাপিও বিসিক কর্তৃপক্ষের তরফ হতে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি গুরুতর অসদাচরণের সাথে যুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে ১৯২টি পদের ছাড়পত্র চেয়ে যে পত্রটি শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে উক্ত পত্রের অগ্রায়ন পত্র থেকে শুরু করে সংযুক্ত ১০৫ পাতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রতি পাতায় মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ফরওয়ার্ডিং লেটারের শুরুতে উল্লিখিত বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ-যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বিসিকের রাজস্ব খাতের ৩য়-১৬তম গ্রেডের ৪১(একচল্লিশ) ক্যাটাগরীর ১৯২(বিরানব্বই) টি শুন্য পদ পূরণের ছাড়পত্র প্রদান। ছাড়পত্র প্রদান বিসিক করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেখানে ছাড়পত্র প্রদানের অনুরোধ অথবা প্রসঙ্গে লিখা থাকা একান্ত আবশ্যক বলে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। যার মধ্যে বিভ্রান্তিকর এবং ভুল রয়েছে অংকে ১৯২ লিখা হলেও বানান লিখা হয়েছে শুধুমাত্র বিরানব্বই। তাছাড়া বিষয়ের পরে ১ম প্যারায় উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছেযে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের লিখে (বিসিক) লিখাটি কোনমতেই সঠিক নয়। দ্বিতীয় লাইনে ৪১ ক্যাটাগরির অংকে ১৯১ লিখে বানান লিখা হয়েছে একশত বিরানব্বই টি পদ শুন্য রয়েছে। ১ম প্যারার নীচে ছকের ৪নং কলামে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত শুন্যপদে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখ থাকার কথা সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত শুন্য পদের সংখ্যা।
ফরওয়ার্ডিং লেটারের ৩৭নং ক্রমিকে উল্লিখিত ইলেকট্রিশিয়ান পদটি আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০১৮ এর বিধানমতে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণযোগ্য হওয়া স্বত্তেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি নিয়োগের কোটায় নিয়োগের ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে, যা সরকারী নির্দেশনা অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্রমিক নং-৩৯ এ উল্লিখিত করণিক তথা মুদ্রাক্ষরিক পদটির পদনাম পরিবর্তন হয়ে অফিস সহকারী কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক করার সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাদের খেয়াল খুশীমতো পদনাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্রায়ন পত্রের ৩য় প্যারায় দেশের শিল্পোয়নে বিসিকের অবদানের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে উল্লেখ থাকার কথা শিল্পায়নে শব্দটির। ৪র্থ প্যারায় ৩য়-১৬ গ্রেডের ৪০(চল্লিশ) ক্যাটাগরি ১৯১ (একশত একানব্বই) টি শুন্যপদের উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ৪১ ক্যাটাগরীর ১৯২টি পদের অথচ ৪র্থ প্যারায় ৪০ ক্যাটাগরীর ১৯১টি পদের ছাড়পত্রের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বিভ্রান্তিকর এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।
তাছাড়া বিভিন্ন পদে বিসিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদসংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিসিকের অস্তিত্ব নিয়ে টান দেয়ার শামিল। বিসিকের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিসিকের জনবলের সংখ্যা নির্ধারণের এখতিয়ার শুধুমাত্র সরকারের তথা সরকারের পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের। বিসিক কর্তৃপক্ষ বা বিসিকের কোন কর্মকর্তা পদ সংখ্যা কমানোর বা বাড়ানোর কোন ক্ষমতা সংরক্ষণ করে না।
জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত ফরওয়ার্ডিং লেটারের সাথে সংযুক্ত রাজস্ব খাতের শুন্য পদ পূরণের তথ্যাবলী সরবরাহের ছক এর ১ হতে ৪১ ক্রমিকের মন্তব্য (বিসিক প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ অনুযায়ী) লিখাটি কোনমতেই সঠিক নয়। বিসিক প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ অনুযায়ী লিখাটির উল্লেখ থাকার কথা ক্রমিক নং ১-৪১ এর প্রতিটির মন্তব্যের কলামে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে ক্রমিক নং-১ হতে ৪১ এবং সর্বশেষ মোট এর মন্তব্য কলামে ৪২ বার প্রকৃত শব্দটির বানান পকৃত লিখা হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ বহন করে প্রস্তাব প্রণয়নকারী মোঃ আরিফ হোসেন এবং শাখা প্রধান মোঃ নাজমূল হোসেন এর যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা এবং পেশাদারসুল্ভ মনোভাবের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা দেখিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করেছে-যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
বিসিক কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিকের পরিচালক প্রশাসন অদক্ষ, অযোগ্য, সরকারী দায়িত্ব পালনে উদাসীন, আপাদমস্তক সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত উক্ত দুজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদেরকে বহাল রেখে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, তাদের চেয়ে যোগ্য কোন কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নয়। সোজা কথায় উক্ত দুজন কর্মকর্তার পক্ষ অবলম্বন করে কাজ করে যাচ্ছেন বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিক পরিচালক প্রশাসনসহ বিসিক পরিচালক পর্ষদের সদস্যগণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভের সুরে জানান যে, শুধুমাত্র নিয়োগ বাণিজ্যের কাজটি মসৃণ রাখার জন্য অপকর্মে সিদ্ধহস্ত অযোগ্য দুজন কর্মকর্তাকে বহাল রেখে কাজ করতে আগ্রহী বিসিক প্রশাসন। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে সুশাসন ও আইনের শাসন। যেমনি নির্বিকার বিসিক প্রশাসন তেমনি নির্বিকার বিসিকের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের অপরাপর মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পদক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন মর্মে অভিমত প্রকাশ করেছেন সচেতন সমাজ।