দুদকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইদুল ইসলাম তাহের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এমন একটি অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বর এ অভিযোগের অনুসন্ধানে নামে। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইনকে দায়িত্ব দেয়।
দুদকের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মো. সাইদুল ইসলাম তাহেরের বিরুদ্ধে দুদকের একটি অনুসন্ধান চলমান আছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ-সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক-বীমা, এনবিআর, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন অফিসে চিঠি দিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। চিঠিতে সাইদুল ইসলাম তাহের, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে থাকা বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক-ব্যালান্সসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়। সব নথিপত্র পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে। যে প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, সাইদুল ইসলাম তাহের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় দায়িত্ব পালনকালে সেখানকার আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক জনতা ট্রেডার্স ও জনতা ব্রিকসের বন্ধকি সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের নির্দেশে ব্যাংকের একটি টিম রাজশাহী পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সাইদুল ইসলাম তাহেরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুল ইসলাম তাহেরের মেয়ে সাদিয়া তাসনিম এবং স্ত্রী হাসিনা পারভীনের নামে ভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তিনি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মেয়ের আইএফআইসি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। এ ছাড়া মেয়ে ও স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় তিন কোটি টাকার স্থিতি পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় কর্মরত থাকাকালে ডিজিএম সাইদুল ইসলাম তাহের বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রভাব খাটিয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক জনতা ট্রেডার্স ও জনতা ব্রিকসের বন্ধকি সম্পত্তি কিনতে চান। কিন্তু অন্যান্য গ্রাহকের তুলনায় মূল্য কম দেওয়ায় মালিকরা তার কাছে সম্পত্তি বিক্রি করতে রাজি হননি। এ ছাড়া জমি মালিকের কাছে অতিরিক্ত দুই বিঘা জমি দাবি করেন। তার কথা না মানায় মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অন্য আগ্রহী গ্রাহকদের হুমকি দেন। এ ঘটনার পর তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়। একই সঙ্গে তার দুটি ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। রাজশাহীর প্রতিটি ব্যাংকের প্রত্যেকটি শাখার ম্যানেজারের কাছে তিনি ত্রাসের মতো। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, তাই সেখানকার ব্যাংক কর্মকর্তারা তার কথা মানতে বাধ্য হতেন।











