১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রণালয় ও দুদকে লিখিত অভিযোগ,তদন্ত দাবী: নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে নাবিকদের অবৈধ কোর্স চালু করে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য ফাঁস

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তির সমন্বিত পরীক্ষা নীতিমালা-২০২২ এবং সিডিসি প্রদানের নীতিমালা-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৪ ও ৮ ভঙ্গ করে প্রি-সী স্পেশাল রেটিং কোর্স নামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনও কোর্স না থাকা সত্ত্বেও এবং অনাবাসিক প্রি-সীর স্পেশাল রেটিং কোর্স ২০২৩ চালু করে সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২০০অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কমডোর মো: নিজামুল হক,বর্তমান চীফ নটিক্যাল অফিসার মো: গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ও চট্রগ্রাম নৌ প্রশিক্ষন একাডেমির প্রিন্সিপাল আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। গঞ্জন আছে যে,উদ্যোক্তা হিসাবে সি এন এস গিয়াসউদ্দিন আহমেদ অনুমোদন দেওয়ার জন্য ৬ কোট টাকা, এন এম আই এর প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ১ কোটি টাকা, ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শীপ সার্ভেয়ার আবুল বাশার ৩৫ লক্ষ টাকা এবং সাবেক মহাপরিচালক ফাইল অনুমোদন দেওয়ার জন্য ২ কোটি টাকা ভাগ করে নিয়েছেন। বিষয়টি স্ববিস্তারে আলোকপাত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান,নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত নাবিক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, আমি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পিতা-মৃত মোহাম্মদ আলী মিঞা, পেশা- নাবিক, ঠিকানাঃ- বাসা- ফকির বাড়ী, গ্রাম- ওটরা, ডাকঘর- ওটরা, উজিরপুর -৮২২২, বরিশাল। আমি সিডিসিধারী সিফেয়ার, যথাযথ প্রশিক্ষন গ্রহন পূর্বক বহুবছর ধরে সুনামের সাথে সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত আছি, আমার সিডিসি বা নাবিক বই যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত। বাংলাদেশি নাবিক হিসাবে সিডিসি (নাবিকের সনদ) পেতে হলে নূন্যতম এস.এস.সি পাশ করে সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে শারীরিক অন্যান্য যোগ্যতায় উত্তীন হয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর অনুমোদিত নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬ মাস মেয়াদী আবাসিক রেজিমিন্টাল প্রশিক্ষন সহ সমুদ্রবিদ্যা ও ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে হয়। এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় গেজেট নং ১৮.০০.০০০০.০১৭,১৮.০০৩.২১- ৪৯৭ “সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তির সমন্বিত পরীক্ষা নীতিমালা-২০২২ গত ৩০ অক্টোবর ২০২২ এ জারী করে।
নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত, শারীরিক, মৌখিক, চক্ষু ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করে নাবিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রদান করা আবশ্যক। অপরদিকে, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গেজেট নং- ১৮.০১৯,০১৮,০০,০০,০০৭.২০১০-১৯৮ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর থেকে সী-ফেয়ার আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট এন্ড রেবর্ড বুক প্রাপ্ত, নির্বাচিত/তালিকাভুক্ত সুপারনিউমারারী ওয়েল্ডার/ফিটার ও হুনদাই ইন্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন তোম্পানী লি: এর জাহাজের নাবিকদের সিডিসি প্রদানের নীতিমালা, তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৮ এ সরকারের নীতিমালা বহির্ভূত বিশেষ ব্যবস্থায় সিডিসি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাহাজে চাকুরীর জন্য সিডিসি (নাবিকের সনদ) প্রয়োজন। সিডিসি একটি পাবলিক ডকুমেন্ট। রাষ্ট্রীয় ভাবে আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে সিডিসি প্রদান করার কথা। বাংলাদেশের সিফেয়ারদের ৯৫ শতাংশ বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরি করে থাকেন, তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশের সিফেয়ারদের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। বাংলাদেশ উক্ত মান বজায় রাখার সরকারি ৭ টি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একই সাথে ৭টি বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রদান করেছেন। এদের মধ্যে নাবিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রশিক্ষনার্থী নাবিকদের জন্য ৬ (ছয়) মাস মেয়াদি আবাসিক রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ সহ সমুদ্রবিদ্যা ও ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ে পত্র ১৮.০০.০০০০.০২৪.৩৩.০০২.২২.২০ তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পত্র নং- ১৮.১৭,০০০০.০১৫.৯৯.০০৩.১৯.৩৭৫ তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ মোতাবেক অধ্যক্ষ, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম গত ১৬ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের পত্রের মাধ্যমে গত ২০ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে অনাবাসিক প্রি- সীর স্পেশাল রেটিং কোর্স ২০২৩ চালু করে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে অযোগ্য ২০০ জনের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেন। যারা অর্থের বিনিময়ে তালিকায় বিশেষ বিবেচনায় নাম অর্ন্তভুক্ত করে প্রশিক্ষন গ্রহন করছেন। প্রি-সী স্পেশাল রেটিং কোর্স নামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনও কোর্স নেই। এই কোর্স পরিচালনার মত অবকাঠামো ও জনবল ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামে এ নেই। এই র্কোস শেষে পরিক্ষার্থীদের সমুদ্রগামী জাহাজে সি ডিসি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। অথচ সিডিসি’র মত পাবলিক ডকুমেন্ট পাবার জন্য এদের গেজেট নং- ১৮.০১৯.০১৮.১৮.০০৩.২০২১-৪৯৭ সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করার প্রয়োজন পড়ে নাই। নৌপরিবহন মন্ত্রনালয় গেজেট নং- ১৮.০১৯,০১৮,০০,০০,০০৭.২০১০-১৯৮ নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে সী-ফেয়ার আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট এন্ড রেবর্ড বুক প্রাপ্ত, নির্বাচিত/তালিকাভুক্ত সুপারনিউমারারী ওয়েল্ডার/ফিটার ও হুনদাই ইন্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন কোম্পানী লি: এর জাহাজের নাবিকদের সিডিসি প্রদানের নীতিমালা, তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৮ এ সরকারের নীতিমালা বহির্ভূত বিশেষ ব্যবস্থায় সিডিসি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়েছে। যে অনিয়ম তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন আবশ্যক।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পত্র নং- ১৮.১৭.০০০০,০২৫.১০.০০১.২৩.২৪৭ তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২৩ এবং পত্র নং- ১৮.১৭.০০০০.০১৫.৯৯.০০৩.১৯.৩৮ তারিখ ২২ মে ২০২৩ এ প্রশিক্ষনের জন্য যথাক্রমে ৮৮ এবং ১১২ জনের তালিকা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, এইসব নাবিকগন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরী করে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করবে। যা সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং আর্থিক বিনিময় এর মাধ্যমে হয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে সরকারী এবং অনুমোদিত বেসরকারী মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা কয়েক হাজার ছেলে চাকুরী পাচ্ছে না এবং এসব অযোগ্য ব্যাক্তিরা সিডিসি প্রাপ্ত হলে বাংলাদেশ থেকে যোগ্য ব্যক্তিগন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরীর সুযোগ পুরোটাই বন্ধ হয়ে যাবে। অযোগ্য লোকজন বিদেশি জাহাজে চাকুরি করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। ফলে বাংলাদেশী নাবিকদের চাকুরীর বাজার হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া যোগ্যতাবিহীন লোকদের সিডিসি (নাবিকের সনদ) প্রদানের ফলে বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন সাদা তালিকা থেকে বের করে দেয়ার সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে। সাদা তালিকা বের করে দিলে বাংলাদেশের সনদ আন্তর্জাতিক মর্যাদা হারাবে এবং বাংলাদেশী কোন মেরিনার আর বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরি করতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, সরকারি গেজেট কে উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় ব্যক্তিবর্গ পানামা সিডিসি (নাবিকের সনদ) বিক্রি করে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ গ্রহন করেছেন এবং ২০০ জনকে অবৈধ ভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে জন প্রতি ৮ লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। আর্থিক সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে সিডিসি প্রদানের কারনে যোগ্য ব্যক্তিবর্গ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সরকারী এবং অনুমোদিত বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা কয়ের হাজার যোগ্য ছেলের সমুদ্রগামী জাহাজে চাকুরীরক্ষেত্র নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণের জন্য এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও নাবিকের মান বজায় রাখার স্বার্থে “সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তির সমন্বিত পরীক্ষা নীতিমালা-২০২২ এবং সিডিসি প্রদানের নীতিমালা-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৪ ও ৮ ভঙ্গ করে প্রি-সী স্পেশাল রেটিং র্কোস নামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনও কোর্স না থাকা সত্ত্বেও এবং অনাবাসিক প্রি-সীর স্পেশাল রেটিং কোর্স ২০২৩ চালু করে সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা ২০০ জনের প্রশিক্ষণ বন্ধ করা এবং অত্র অনিয়ম ও নীতি বহির্ভূত কার্যক্রমের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করা হয়েছে। অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকেও প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল অফিসার মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন,
এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩
৪৯৪ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রণালয় ও দুদকে লিখিত অভিযোগ,তদন্ত দাবী: নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে নাবিকদের অবৈধ কোর্স চালু করে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য ফাঁস

আপডেট সময় ১০:৫১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তির সমন্বিত পরীক্ষা নীতিমালা-২০২২ এবং সিডিসি প্রদানের নীতিমালা-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৪ ও ৮ ভঙ্গ করে প্রি-সী স্পেশাল রেটিং কোর্স নামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনও কোর্স না থাকা সত্ত্বেও এবং অনাবাসিক প্রি-সীর স্পেশাল রেটিং কোর্স ২০২৩ চালু করে সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২০০অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কমডোর মো: নিজামুল হক,বর্তমান চীফ নটিক্যাল অফিসার মো: গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ও চট্রগ্রাম নৌ প্রশিক্ষন একাডেমির প্রিন্সিপাল আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। গঞ্জন আছে যে,উদ্যোক্তা হিসাবে সি এন এস গিয়াসউদ্দিন আহমেদ অনুমোদন দেওয়ার জন্য ৬ কোট টাকা, এন এম আই এর প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ১ কোটি টাকা, ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শীপ সার্ভেয়ার আবুল বাশার ৩৫ লক্ষ টাকা এবং সাবেক মহাপরিচালক ফাইল অনুমোদন দেওয়ার জন্য ২ কোটি টাকা ভাগ করে নিয়েছেন। বিষয়টি স্ববিস্তারে আলোকপাত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান,নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত নাবিক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, আমি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পিতা-মৃত মোহাম্মদ আলী মিঞা, পেশা- নাবিক, ঠিকানাঃ- বাসা- ফকির বাড়ী, গ্রাম- ওটরা, ডাকঘর- ওটরা, উজিরপুর -৮২২২, বরিশাল। আমি সিডিসিধারী সিফেয়ার, যথাযথ প্রশিক্ষন গ্রহন পূর্বক বহুবছর ধরে সুনামের সাথে সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত আছি, আমার সিডিসি বা নাবিক বই যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত। বাংলাদেশি নাবিক হিসাবে সিডিসি (নাবিকের সনদ) পেতে হলে নূন্যতম এস.এস.সি পাশ করে সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে শারীরিক অন্যান্য যোগ্যতায় উত্তীন হয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর অনুমোদিত নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬ মাস মেয়াদী আবাসিক রেজিমিন্টাল প্রশিক্ষন সহ সমুদ্রবিদ্যা ও ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে হয়। এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় গেজেট নং ১৮.০০.০০০০.০১৭,১৮.০০৩.২১- ৪৯৭ “সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তির সমন্বিত পরীক্ষা নীতিমালা-২০২২ গত ৩০ অক্টোবর ২০২২ এ জারী করে।
নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত, শারীরিক, মৌখিক, চক্ষু ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করে নাবিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রদান করা আবশ্যক। অপরদিকে, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গেজেট নং- ১৮.০১৯,০১৮,০০,০০,০০৭.২০১০-১৯৮ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর থেকে সী-ফেয়ার আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট এন্ড রেবর্ড বুক প্রাপ্ত, নির্বাচিত/তালিকাভুক্ত সুপারনিউমারারী ওয়েল্ডার/ফিটার ও হুনদাই ইন্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন তোম্পানী লি: এর জাহাজের নাবিকদের সিডিসি প্রদানের নীতিমালা, তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৮ এ সরকারের নীতিমালা বহির্ভূত বিশেষ ব্যবস্থায় সিডিসি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাহাজে চাকুরীর জন্য সিডিসি (নাবিকের সনদ) প্রয়োজন। সিডিসি একটি পাবলিক ডকুমেন্ট। রাষ্ট্রীয় ভাবে আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে সিডিসি প্রদান করার কথা। বাংলাদেশের সিফেয়ারদের ৯৫ শতাংশ বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরি করে থাকেন, তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশের সিফেয়ারদের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। বাংলাদেশ উক্ত মান বজায় রাখার সরকারি ৭ টি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একই সাথে ৭টি বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রদান করেছেন। এদের মধ্যে নাবিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রশিক্ষনার্থী নাবিকদের জন্য ৬ (ছয়) মাস মেয়াদি আবাসিক রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ সহ সমুদ্রবিদ্যা ও ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ে পত্র ১৮.০০.০০০০.০২৪.৩৩.০০২.২২.২০ তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পত্র নং- ১৮.১৭,০০০০.০১৫.৯৯.০০৩.১৯.৩৭৫ তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ মোতাবেক অধ্যক্ষ, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম গত ১৬ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের পত্রের মাধ্যমে গত ২০ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে অনাবাসিক প্রি- সীর স্পেশাল রেটিং কোর্স ২০২৩ চালু করে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে অযোগ্য ২০০ জনের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেন। যারা অর্থের বিনিময়ে তালিকায় বিশেষ বিবেচনায় নাম অর্ন্তভুক্ত করে প্রশিক্ষন গ্রহন করছেন। প্রি-সী স্পেশাল রেটিং কোর্স নামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনও কোর্স নেই। এই কোর্স পরিচালনার মত অবকাঠামো ও জনবল ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামে এ নেই। এই র্কোস শেষে পরিক্ষার্থীদের সমুদ্রগামী জাহাজে সি ডিসি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। অথচ সিডিসি’র মত পাবলিক ডকুমেন্ট পাবার জন্য এদের গেজেট নং- ১৮.০১৯.০১৮.১৮.০০৩.২০২১-৪৯৭ সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করার প্রয়োজন পড়ে নাই। নৌপরিবহন মন্ত্রনালয় গেজেট নং- ১৮.০১৯,০১৮,০০,০০,০০৭.২০১০-১৯৮ নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে সী-ফেয়ার আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট এন্ড রেবর্ড বুক প্রাপ্ত, নির্বাচিত/তালিকাভুক্ত সুপারনিউমারারী ওয়েল্ডার/ফিটার ও হুনদাই ইন্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন কোম্পানী লি: এর জাহাজের নাবিকদের সিডিসি প্রদানের নীতিমালা, তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৮ এ সরকারের নীতিমালা বহির্ভূত বিশেষ ব্যবস্থায় সিডিসি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়েছে। যে অনিয়ম তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন আবশ্যক।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পত্র নং- ১৮.১৭.০০০০,০২৫.১০.০০১.২৩.২৪৭ তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২৩ এবং পত্র নং- ১৮.১৭.০০০০.০১৫.৯৯.০০৩.১৯.৩৮ তারিখ ২২ মে ২০২৩ এ প্রশিক্ষনের জন্য যথাক্রমে ৮৮ এবং ১১২ জনের তালিকা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, এইসব নাবিকগন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরী করে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করবে। যা সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং আর্থিক বিনিময় এর মাধ্যমে হয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে সরকারী এবং অনুমোদিত বেসরকারী মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা কয়েক হাজার ছেলে চাকুরী পাচ্ছে না এবং এসব অযোগ্য ব্যাক্তিরা সিডিসি প্রাপ্ত হলে বাংলাদেশ থেকে যোগ্য ব্যক্তিগন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরীর সুযোগ পুরোটাই বন্ধ হয়ে যাবে। অযোগ্য লোকজন বিদেশি জাহাজে চাকুরি করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। ফলে বাংলাদেশী নাবিকদের চাকুরীর বাজার হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া যোগ্যতাবিহীন লোকদের সিডিসি (নাবিকের সনদ) প্রদানের ফলে বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন সাদা তালিকা থেকে বের করে দেয়ার সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে। সাদা তালিকা বের করে দিলে বাংলাদেশের সনদ আন্তর্জাতিক মর্যাদা হারাবে এবং বাংলাদেশী কোন মেরিনার আর বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে চাকুরি করতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, সরকারি গেজেট কে উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় ব্যক্তিবর্গ পানামা সিডিসি (নাবিকের সনদ) বিক্রি করে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ গ্রহন করেছেন এবং ২০০ জনকে অবৈধ ভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে জন প্রতি ৮ লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। আর্থিক সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে সিডিসি প্রদানের কারনে যোগ্য ব্যক্তিবর্গ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সরকারী এবং অনুমোদিত বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা কয়ের হাজার যোগ্য ছেলের সমুদ্রগামী জাহাজে চাকুরীরক্ষেত্র নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণের জন্য এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও নাবিকের মান বজায় রাখার স্বার্থে “সরকারি ও বেসরকারি মেরিটাইম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী নাবিক (রেটিং) ভর্তির সমন্বিত পরীক্ষা নীতিমালা-২০২২ এবং সিডিসি প্রদানের নীতিমালা-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৪ ও ৮ ভঙ্গ করে প্রি-সী স্পেশাল রেটিং র্কোস নামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনও কোর্স না থাকা সত্ত্বেও এবং অনাবাসিক প্রি-সীর স্পেশাল রেটিং কোর্স ২০২৩ চালু করে সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা ২০০ জনের প্রশিক্ষণ বন্ধ করা এবং অত্র অনিয়ম ও নীতি বহির্ভূত কার্যক্রমের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করা হয়েছে। অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকেও প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল অফিসার মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন,
এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।