পাবনার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিবেদিতপ্রাণ রাজউকের পরিচালক(উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) প্রকৌশলী মো: মোবারক হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
‘বহুমাত্রিক প্রতিভার মেলবন্ধনে পাবনা’র অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক, পাবনার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বর্তমান পরিচালক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রন প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন।
তিনি ১৯৬৬ সালের আজকের এই দিনে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার হাটগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজি মকবুল হোসেন ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য-পরিদর্শক। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। প্রকৌশলী মোবারক হোসেনের মা আখলিমা হোসেন ছিলেন গৃহিণী। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মোবারক হোসেন জ্যেষ্ঠ। ছোটোভাই প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বিজিএমইএ-এর প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার। প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন হাটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাঙ্গুড়া ও নয়নগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উল্লাপাড়া থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি উল্লাপাড়া বণিক বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি (বিজ্ঞান) এবং সরকারি আকবর আলী কলেজ, উল্লাপাড়া থেকে ১৯৮৩ সালে এইচএসসি (বিজ্ঞান) পাস করেন। পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৯ সালে ডিপ্লোমা-ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আইইবি থেকে ২০০২ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবনের প্রথমে প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি ঢাকা ও কক্সবাজার বিমান বন্দরের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বিশেষ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
১৯৯৪ সালে তিনি ঢাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উপ সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে যোগ দেন। ২০০২ সালে তিনি সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং ২০১৩ সালে অথরাইজড অফিসার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। রাজউকে তিনি জোন-৩ (উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্প, হরিরামপুর ইউনিয়ন (আংশিক), তুরাগ, সাভার পৌরসভা, মিরপুর এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পরিচালক নিয়ন্ত্রণ হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮২ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে ফোর্স টিসি দিয়ে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে, কিন্তু পরবর্তীতে উত্তাল ছাত্র-আন্দোলনের চাপে সে বহিষ্কার আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়। পুনরায় কলেজে ফিরে এসে তিনি ছাত্র-আন্দোলনে আরো জোরালো ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন। পাবনা পলিটেকনিকে অধ্যয়নকালে তিনি যোগ্যতার গুণে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগেরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবনের প্রতিটি সময় পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেন।
প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন কর্মজীবনের পাশাপাশি সামাজিক নানা কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত আছেন। তিনি ঢাকা রাজধানী লায়ন ক্লাবের সাবেক সভাপতি, নিজগ্রামের ‘হাটগ্রাম আজাদ ক্লাব’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ‘হাটগ্রাম আজাদ ক্লাব’-এর রেজিস্ট্রেশন হয় তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। হাটগ্রাম-মধুরগাতি-রাউৎকাদি কবরস্থানের সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করছেন। হাটগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং জমি দান করেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। ঐতিহ্যবাহী ‘হাটগ্রাম সোনালি সৈকত’-এর তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় পুরস্কারটি তিনিই দিয়ে থাকেন। ঢাকার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি জড়িত এবং ‘সুর সন্ধ্যা সংগীত একাডেমি’র তিনি প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকাস্থ পাবনা সমিতির আজীবন-সদস্য এবং উত্তরাস্থ পাবনা সমিতির তিনি অন্যতম সংগঠক। প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন বিবাহিত এবং স্ত্রী শাহানা পারভীন গৃহিণী। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।











