০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভাগীয় পদক্ষেপ জরুরী: নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ৪ কর্মকর্তার লাগামহীন দুর্নীতি!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতার মহান কারিগর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠান নৌপরিবহন অধিদপ্তর যখন তার সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঠিক তখনেই কুমিল্লার কুখ্যাত বিএনপি-জামাতপন্থী পরিবারের প্রাক্তন বিএনপির এমপির সন্তান এবং তারেক রহমানের একান্ত ঘরের মানুষ ২৪তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা বদরুল হাসান লিটন (প্রাক্তন পরিচালক, নৌপরিবহন অধিদপ্তর), মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (সহকারী পরিচালক) ও ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট) এর লাগামহীন দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকান্ডর কারণে আপনার অধিদপ্তর তথা বঙ্গবন্ধুর তৈরি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণসহ তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ের প্রতিবন্ধকথা সৃষ্টি করছে। তাদের লাগামহীন দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকান্ডর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিন্মে তুলে ধরা হলো:
নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ইজিআইএমএন্স প্রকল্পের ঠিকাদার এস.এম মনিরুজ্জামানের আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বদরুল হাসান লিটন (প্রাক্তন পরিচালক, নৌপরিবহন অধিদপ্তর) ও সদস্য ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট) অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়ে অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন যা তথ্য প্রমাণাদি ও পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়। কমিটি গঠনের ১ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বদরুল হাসান লিটন ১ বছর হতে চললেও তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বদলি নিয়ে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় পরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে যোগদান করেছেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ইজিআইএমএন্স প্রকল্পের যেসব কর্মকর্তাদের (আশরাফ, নাজমুল, রিয়াজ ও মেজবাহ) কারণে এস.এম. মনিরুজ্জামান আত্মহত্যা করেন সে বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ফাওজিয়ার সাথে প্রধান অভিযুক্ত উপ প্রকল্প পরিচালক (চাকুরীচ্যুত) আশরাফের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত রয়েছেন এবং পানামা সিডিসিধারীদেরকে বাংলাদেশী সিডিসি প্রদানের দালালী সহ অন্যান্য দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে বলে জানা যায়। আত্মহত্যা প্ররোচনায় আরেক অভিযুক্ত প্রকল্পের সহকারি পরিচালক (চাকুরীচ্যুত) নাজমুল টিটু মরহুম এস.এম মনিরুজ্জামানের মেরে দেওয়া টাকায় বাড়ী গাড়ী করেছেন। এছাড়াও সে বিভিন্ন তারকা হোটেলে মদ্যপান ও একেক সময় একেক মেয়ে নিয়ে ফুর্তি /রাত্রি যাপন করায় তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে মরহুম এস.এম মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মারুফা ইয়াসমীন রোজী স্বামী হত্যার পর নিদারুণ আর্থিক সংকটে নিপতিত হয়ে সন্তানদের নিয়ে ঢাকা শহর থেকে গ্রামে গিয়ে আধা বেলা খেয়ে না খেয়ে করুন জীবন যাপন করছে। স্বামী হারা স্ত্রী ও বাবা হারা সন্তানরা কি এই বর্বতার কোন বিচার পাবে না?

নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক মাহমুদা কি চাকুরীতে আছে কি নেই তা এক বিশাল প্রশ্ন? মাহমুদা কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তার সাথে তৎকালীন পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের অত্যন্ত দৃষ্টিকটু সুসম্পর্ক ছিল। পরিচালক এবং সহকারি পরিচালক মিলে বৈদেশিক ছুঁটি অনুমোদন ছাড়াই নগদ ২০ হাজার এবং মাসিক বেতন চুক্তিতে মাহমুদাকে ইতালিতে প্রেরণ করে। অবৈধ ছুঁটিতে থাকাকালীন সময়ে মাহমুদার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া বেতন সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মাহমুদার রেখে যাওয়া এ টি এম কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করে তৎকালীন পরিচালকের সাথে ভাগাভাগি করে খায়। কর্মচারীদের ছুটি মঞ্জুর সহ হাজিরা খাতা পরিচালক এবং সহকারি পরিচালক প্রতিদিন চেক করেন এবং কেউ অনুপস্থিত থাকলে ব্যাখ্যা তলব করেন। তবে মাহমুদা দীর্ঘ ৮ মাস অনুপস্থিত থাকলেও তৎকালীন ডিজি কমোডোর জালাল এর কাছে ধরা খাওয়ার আগে পর্যন্ত টু শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেন নাই। ধরা খাওয়ার পর মাহমুদাকে ইতালি থেকে ফেরত এনে যোগদান করানোর পর তার অবৈধভাবে নেওয়া বেতন কর্তন করা হয়। এর কিছুদিন পর আগের মতই গোপনে বহিঃ বাংলাদেশ ছুঁটির অনুমোদন ছাড়াই পুনরায় ইতালি প্রেরণ করে। এ বিষয়ে একটি তৎকালীন পরিচালকের অধিনস্থ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট) দিয়ে একটি কমিটি গঠিত হলেও পরিচালকের দাপটে তারা তাদের রিপোর্ট প্রদান করতে পারেন নাই। মাহমুদার চাকুরীর ১৫ বছর পূর্তিতে সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তাকে পেনশন সহ অবসর প্রদান করবেন বলে ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছে বলে মাহমুদা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিকটজনদের ইতালি থেকে ফোন করে জানিয়েছেন ।

তৎকালীন পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নিয়োগ ও বদলি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেনবলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় যা যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়। তৎকালীন পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় হোটেল আল রাব্বি নামক একটি হোটেলের মালিক বনে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দূর দূরান্ত আগত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকদের জন্য তারা স্পেশাল ডিসকাউন্ট প্রদান করেন বলে অনেকেই তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন । মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নিজের মালিকানাধীন একটি টয়োটা হাইএস মাইক্রোবাসকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ভাড়া দিয়েছেন যা তার নিজের বাসার গ্যারেজে থাকে এবং তাকে আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার হয়।
মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ইন্সপেক্টরদের বরাদ্দকৃত মোটর সাইকেল গুলোর মধ্য হতে মহাপরিচালক মহোদয়ের পিএস মুনতা হেনার নামে বরাদ্দকৃত মোটরসাইকেলটি অবৈধভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন যা সবাই দেখলেও তার ক্ষমতার ভয়ে প্রকাশ করছে না।

নদনদীর পানিকে দূষণমুক্ত রাখতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের টাকায় পরিবেশ প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জে বিশাল ভবন সহ পরিবেশ পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা হয় যাতে ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট)কে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দেশের নদ নদীকে দূষণমুক্ত রাখার প্রথম প্রচেষ্টা এটি। প্রকল্পের গুরুত্ত বিবেচনায় এটির যন্ত্রপাতি সহ জনবলকে রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবার পর থেকেই সহকারি কেমিস্ট তার টিম সহ ল্যাবরেটরিতে কাজে অনীহা প্রকাশ করা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন লাভজনক কাজে নিয়োজিত হয়। নদীর পানির গুণগত মান পরীক্ষা সহ নজরদারি না থাকায় দেশের বিশেষ করে ঢাকা ও তার আশে পাশের নদী গুলো দূষিত হয়ে পরে। অন্যদিকে বিশাল ভবন সহ পরিবেশ পরীক্ষাগারের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাচ্ছে এবং কেমিক্যাল গুলো বিস্ফোরণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার ফসল সমুদ্রে নারী ক্ষমতায়নের জন্য মেরিন একাডেমীতে প্রশিক্ষিত নারী কর্মকর্তাগণকে সিডিসি প্রদানে বাঁধার সৃষ্টি করতেও দ্বিধাবোধ করেননি ফাওজিয়া রহমান। এ বিষয়ে তৎকালীন মহাপরিচালক তার নারী বিদ্বেষী কুপরামর্শে সায় দিলে, মহাপরিচালক মহোদয়কে শাস্তিমূলক বদলী করা হয় । ফাওজিয়া রহমান মেরিনারদের সিওপি সম্পর্কীয় বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন যা ভুক্তভুগি মেরিনাররা অনেকেই নিশ্চিত করেছেন। ফাওজিয়া রহমান অবিবাহিত বিধায় অধিদপ্তরের অনেক উচ্চপদস্থের সাথে তার সাথে ঘনিষ্ঠ উঠাবসা রয়েছে যা নিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক কথা প্রচলিত আছে এবং সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার দাম্পত্য কলহের কারণ হয়েছেন। তবে এই বিশেষ সম্পর্কের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বার বার তাগিদ সত্তেও তাকে প্রধান কার্যালয় থেকে তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ পরীক্ষাগারে বদলি করা সম্ভব হয় নাই।
ফাওজিয়া রহমানের প্রকল্পের প্রাক্তন ডিপিডি আবু হায়াত আশরাফুল আলমের সাথে বাসাবোস্থ বৌদ্ধমন্দিরের উল্টো দিকের ১ম লেনের বাসায় কোভিড -১৯ চলাকালীন সময়ে তার বউয়ের অনুপস্থিতে নিয়মিত যাতায়াতের গুঞ্জন রয়েছে। বাসাবো এলাকায় বসবাসকারী প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সেই সময় বেশ কয়েকদিন তাদের একত্রে দেখেছেন এবং আশরাফের স্ত্রী এই বিষয়ে প্রকল্পের সহকারি পরিচালক নাজমুলের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে উপ প্রকল্প পরিচালক আশরাফের চাকুরীচ্যুতির পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় একান্ত স্মৃতি গুলো ভিডিও গুলো দেখিয়ে ফাওজিয়া আশরাফকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এ সব বিষয় নিয়ে জাতীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই চরিত্রহীন ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের উপরোক্ত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে স্বাধীন কোন সংস্থা যেমন মন্ত্রণালয়, দুদক, ডিজিএফআই, এনএসএই দ্বারা কেন তদন্ত করা হয়নি তাও জনগনের কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী,সচিব ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন দেশবাসী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩
৪২৪ বার পড়া হয়েছে

বিভাগীয় পদক্ষেপ জরুরী: নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ৪ কর্মকর্তার লাগামহীন দুর্নীতি!

আপডেট সময় ০৩:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

বিশেষ প্রতিবেদক

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতার মহান কারিগর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠান নৌপরিবহন অধিদপ্তর যখন তার সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঠিক তখনেই কুমিল্লার কুখ্যাত বিএনপি-জামাতপন্থী পরিবারের প্রাক্তন বিএনপির এমপির সন্তান এবং তারেক রহমানের একান্ত ঘরের মানুষ ২৪তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা বদরুল হাসান লিটন (প্রাক্তন পরিচালক, নৌপরিবহন অধিদপ্তর), মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (সহকারী পরিচালক) ও ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট) এর লাগামহীন দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকান্ডর কারণে আপনার অধিদপ্তর তথা বঙ্গবন্ধুর তৈরি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণসহ তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ের প্রতিবন্ধকথা সৃষ্টি করছে। তাদের লাগামহীন দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকান্ডর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিন্মে তুলে ধরা হলো:
নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ইজিআইএমএন্স প্রকল্পের ঠিকাদার এস.এম মনিরুজ্জামানের আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বদরুল হাসান লিটন (প্রাক্তন পরিচালক, নৌপরিবহন অধিদপ্তর) ও সদস্য ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট) অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়ে অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন যা তথ্য প্রমাণাদি ও পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়। কমিটি গঠনের ১ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বদরুল হাসান লিটন ১ বছর হতে চললেও তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বদলি নিয়ে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় পরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে যোগদান করেছেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ইজিআইএমএন্স প্রকল্পের যেসব কর্মকর্তাদের (আশরাফ, নাজমুল, রিয়াজ ও মেজবাহ) কারণে এস.এম. মনিরুজ্জামান আত্মহত্যা করেন সে বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ফাওজিয়ার সাথে প্রধান অভিযুক্ত উপ প্রকল্প পরিচালক (চাকুরীচ্যুত) আশরাফের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত রয়েছেন এবং পানামা সিডিসিধারীদেরকে বাংলাদেশী সিডিসি প্রদানের দালালী সহ অন্যান্য দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে বলে জানা যায়। আত্মহত্যা প্ররোচনায় আরেক অভিযুক্ত প্রকল্পের সহকারি পরিচালক (চাকুরীচ্যুত) নাজমুল টিটু মরহুম এস.এম মনিরুজ্জামানের মেরে দেওয়া টাকায় বাড়ী গাড়ী করেছেন। এছাড়াও সে বিভিন্ন তারকা হোটেলে মদ্যপান ও একেক সময় একেক মেয়ে নিয়ে ফুর্তি /রাত্রি যাপন করায় তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে মরহুম এস.এম মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মারুফা ইয়াসমীন রোজী স্বামী হত্যার পর নিদারুণ আর্থিক সংকটে নিপতিত হয়ে সন্তানদের নিয়ে ঢাকা শহর থেকে গ্রামে গিয়ে আধা বেলা খেয়ে না খেয়ে করুন জীবন যাপন করছে। স্বামী হারা স্ত্রী ও বাবা হারা সন্তানরা কি এই বর্বতার কোন বিচার পাবে না?

নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক মাহমুদা কি চাকুরীতে আছে কি নেই তা এক বিশাল প্রশ্ন? মাহমুদা কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তার সাথে তৎকালীন পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের অত্যন্ত দৃষ্টিকটু সুসম্পর্ক ছিল। পরিচালক এবং সহকারি পরিচালক মিলে বৈদেশিক ছুঁটি অনুমোদন ছাড়াই নগদ ২০ হাজার এবং মাসিক বেতন চুক্তিতে মাহমুদাকে ইতালিতে প্রেরণ করে। অবৈধ ছুঁটিতে থাকাকালীন সময়ে মাহমুদার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া বেতন সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মাহমুদার রেখে যাওয়া এ টি এম কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করে তৎকালীন পরিচালকের সাথে ভাগাভাগি করে খায়। কর্মচারীদের ছুটি মঞ্জুর সহ হাজিরা খাতা পরিচালক এবং সহকারি পরিচালক প্রতিদিন চেক করেন এবং কেউ অনুপস্থিত থাকলে ব্যাখ্যা তলব করেন। তবে মাহমুদা দীর্ঘ ৮ মাস অনুপস্থিত থাকলেও তৎকালীন ডিজি কমোডোর জালাল এর কাছে ধরা খাওয়ার আগে পর্যন্ত টু শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেন নাই। ধরা খাওয়ার পর মাহমুদাকে ইতালি থেকে ফেরত এনে যোগদান করানোর পর তার অবৈধভাবে নেওয়া বেতন কর্তন করা হয়। এর কিছুদিন পর আগের মতই গোপনে বহিঃ বাংলাদেশ ছুঁটির অনুমোদন ছাড়াই পুনরায় ইতালি প্রেরণ করে। এ বিষয়ে একটি তৎকালীন পরিচালকের অধিনস্থ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট) দিয়ে একটি কমিটি গঠিত হলেও পরিচালকের দাপটে তারা তাদের রিপোর্ট প্রদান করতে পারেন নাই। মাহমুদার চাকুরীর ১৫ বছর পূর্তিতে সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তাকে পেনশন সহ অবসর প্রদান করবেন বলে ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছে বলে মাহমুদা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিকটজনদের ইতালি থেকে ফোন করে জানিয়েছেন ।

তৎকালীন পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নিয়োগ ও বদলি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেনবলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় যা যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়। তৎকালীন পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় হোটেল আল রাব্বি নামক একটি হোটেলের মালিক বনে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দূর দূরান্ত আগত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকদের জন্য তারা স্পেশাল ডিসকাউন্ট প্রদান করেন বলে অনেকেই তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন । মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নিজের মালিকানাধীন একটি টয়োটা হাইএস মাইক্রোবাসকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ভাড়া দিয়েছেন যা তার নিজের বাসার গ্যারেজে থাকে এবং তাকে আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার হয়।
মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ইন্সপেক্টরদের বরাদ্দকৃত মোটর সাইকেল গুলোর মধ্য হতে মহাপরিচালক মহোদয়ের পিএস মুনতা হেনার নামে বরাদ্দকৃত মোটরসাইকেলটি অবৈধভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন যা সবাই দেখলেও তার ক্ষমতার ভয়ে প্রকাশ করছে না।

নদনদীর পানিকে দূষণমুক্ত রাখতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের টাকায় পরিবেশ প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জে বিশাল ভবন সহ পরিবেশ পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা হয় যাতে ফাওজিয়া রহমান (সহকারী কেমিষ্ট)কে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দেশের নদ নদীকে দূষণমুক্ত রাখার প্রথম প্রচেষ্টা এটি। প্রকল্পের গুরুত্ত বিবেচনায় এটির যন্ত্রপাতি সহ জনবলকে রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবার পর থেকেই সহকারি কেমিস্ট তার টিম সহ ল্যাবরেটরিতে কাজে অনীহা প্রকাশ করা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন লাভজনক কাজে নিয়োজিত হয়। নদীর পানির গুণগত মান পরীক্ষা সহ নজরদারি না থাকায় দেশের বিশেষ করে ঢাকা ও তার আশে পাশের নদী গুলো দূষিত হয়ে পরে। অন্যদিকে বিশাল ভবন সহ পরিবেশ পরীক্ষাগারের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাচ্ছে এবং কেমিক্যাল গুলো বিস্ফোরণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার ফসল সমুদ্রে নারী ক্ষমতায়নের জন্য মেরিন একাডেমীতে প্রশিক্ষিত নারী কর্মকর্তাগণকে সিডিসি প্রদানে বাঁধার সৃষ্টি করতেও দ্বিধাবোধ করেননি ফাওজিয়া রহমান। এ বিষয়ে তৎকালীন মহাপরিচালক তার নারী বিদ্বেষী কুপরামর্শে সায় দিলে, মহাপরিচালক মহোদয়কে শাস্তিমূলক বদলী করা হয় । ফাওজিয়া রহমান মেরিনারদের সিওপি সম্পর্কীয় বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন যা ভুক্তভুগি মেরিনাররা অনেকেই নিশ্চিত করেছেন। ফাওজিয়া রহমান অবিবাহিত বিধায় অধিদপ্তরের অনেক উচ্চপদস্থের সাথে তার সাথে ঘনিষ্ঠ উঠাবসা রয়েছে যা নিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক কথা প্রচলিত আছে এবং সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার দাম্পত্য কলহের কারণ হয়েছেন। তবে এই বিশেষ সম্পর্কের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বার বার তাগিদ সত্তেও তাকে প্রধান কার্যালয় থেকে তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ পরীক্ষাগারে বদলি করা সম্ভব হয় নাই।
ফাওজিয়া রহমানের প্রকল্পের প্রাক্তন ডিপিডি আবু হায়াত আশরাফুল আলমের সাথে বাসাবোস্থ বৌদ্ধমন্দিরের উল্টো দিকের ১ম লেনের বাসায় কোভিড -১৯ চলাকালীন সময়ে তার বউয়ের অনুপস্থিতে নিয়মিত যাতায়াতের গুঞ্জন রয়েছে। বাসাবো এলাকায় বসবাসকারী প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সেই সময় বেশ কয়েকদিন তাদের একত্রে দেখেছেন এবং আশরাফের স্ত্রী এই বিষয়ে প্রকল্পের সহকারি পরিচালক নাজমুলের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে উপ প্রকল্প পরিচালক আশরাফের চাকুরীচ্যুতির পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় একান্ত স্মৃতি গুলো ভিডিও গুলো দেখিয়ে ফাওজিয়া আশরাফকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এ সব বিষয় নিয়ে জাতীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই চরিত্রহীন ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের উপরোক্ত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে স্বাধীন কোন সংস্থা যেমন মন্ত্রণালয়, দুদক, ডিজিএফআই, এনএসএই দ্বারা কেন তদন্ত করা হয়নি তাও জনগনের কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী,সচিব ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন দেশবাসী।