০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: অপকর্মে মশগুল এডি দিদারুল

প্রতিনিধির নাম:

‘বাঘ শাহজাহান’ বললে এক নামে চেনে চাঁদপুর শহরের মানুষ। মাদকের বড় কারবারি। তাঁর বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে দুই হাজার পিস ইয়াবা– এমন তথ্য পেয়ে গত ৫ জুলাই দলবলে হানা দেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ অভিযানের অধিনায়ক ছিলেন চাঁদপুর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (এডি) একেএম দিদারুল আলম। শাহজাহানের বাসার সামনে গিয়েই নাটকের শুরু। তাঁর বাসায় ঢুকতেই পারেনি আভিযানিক দল।

তল্লাশিতে বাদ সাধেন এডি দিদারুল! এক পর্যায়ে আভিযানিক দলের সদস্যদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি একা বাসায় ঢুকে শাহজাহান ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে দলের সদস্যদের নিয়ে চলে আসেন কার্যালয়ে। পরদিন মাদক কারবারি দম্পতির সঙ্গে ডিএনসির চাঁদপুর কার্যালয়ে একান্ত বৈঠকও করেন তিনি। ইয়াবা আছে তথ্য থাকার পরও একজন মাদক কারবারির বাসায় অভিযানে গিয়ে তল্লাশি করতে কেন নিষেধ করলেন এডি দিদারুল? এ নিয়ে সে সময় দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিদারুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পুরোনো। ২০১১ সালে ডিএনসির ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের তিনি যখন হিসাবরক্ষক ছিলেন তখন তাঁরই সহকর্মীরা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত এডি হয়ে যে জেলায় গেছেন সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মানুষকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতেও দারুণ পটু দিদারুল। সম্প্রতি চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলবে মা ও ভাইকে মাদক মামলায় ফাঁসনোর অভিযোগ তুলে দিদারুলের নামে অধিদপ্তরে নালিশ জানিয়েছেন এক তরুণী। একের পর এক অভিযোগের তীর ছোড়া হলেও কোনো সময় বড় কোনো বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে।

ইয়াবা কারবারি বাঘ শাহজাহানের মতো চাঁদপুরের বহু মাদক কারবারির সঙ্গে সখ্য এ মাদক কর্মকর্তার। অভিযোগ আছে, তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তিনি চোখ বুজে থাকেন। দিদারুলের এসব অনিয়মের চক্কর থেকে নিস্তার চান তাঁর সহকর্মীরাও। দিদারুলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে তার অধীনে থাকা পরিদর্শকসহ আট সহকর্মী সম্প্রতি ডিএনসির মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। অভিযোগকারীরা হলেন– ডিএনসির চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সেন্টু রঞ্জন নাথ, এসআই মোহাম্মদ পিয়ার হোসেন, এএসআই সাইফুল ইসলাম, সিপাই মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাজ্জাদ হোসেন ও শরীফুল ইসলাম, ওয়্যারলেস অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন এবং গাড়িচালক ওমর ফারুক রাজন। তাদের অভিযোগ, জেলার সব মাদক কারবারির সঙ্গে এডি দিদারুল আলমের রয়েছে অন্যরকম সখ্য। কারবারিদের বিষয়ে তাঁর পক্ষপাতমূলক আচরণে মাদকবিরোধী অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে।

জানতে চাইলে ডিএনসির পরিচালক (অপারেশনস ও গোয়েন্দা) মো. তানভীর মমতাজ  বলেন, ‘দিদারুলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অনুসন্ধান করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ডিএনসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানে ইয়াবাসহ রিপন ঢালী নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত রিপনকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। রিপনকে সাজা দেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান এডি দিদারুল। রিপনকে কেন আটক করা হয়েছে– এমন প্রশ্ন তুলে দিদারুল তাঁর অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই। রিপনকে নিজের সোর্স বলে পরিচয় দেন দিদারুল। এক পর্যায়ে নিজের পকেট থেকে ইয়াবা কারবারি রিপনের ওই জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। প্রকাশ্যে একজন কর্মকর্তা অপরাধীর পক্ষ নেওয়া এবং জরিমানার টাকা দেওয়া নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়।

সম্প্রতি চাঁদপুরের বড় স্টেশন এলাকায় ডিএনসির চাঁদপুরের পরিদর্শক সেন্টু রঞ্জন নাথের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে কারবারি রাজনের ঘর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করে। এ মাদক রাজন ও মিলন মজুত করে রেখেছিলেন বলে তথ্য ছিল কর্মকর্তাদের কাছে। তবে এডি দিদারুলের বাধার কারণে মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি বলে অভিযোগ আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিএনসির ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ১৪ পরিদর্শক অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ ছিল, টাকা ছাড়া তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফাইলে কাজ করেন না। বিভিন্ন বিল তুলতে কমিশন চাইতেন তিনি। পরে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে ডিএনসির নওগাঁ কার্যালয়ে যুক্ত হন। সেখান থেকে বদলি হয়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে যান চাঁদপুরে। ওই বছরের ডিসেম্বরে সদর উপজেলার চান্দা ইউনিয়নের কাপড় ব্যবসায়ী জহির মিজিকে ৪২০ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছিলেন দিদারুল। মাদক কারবারি জামাল গাজীর সঙ্গে আঁতাত করে জহিরকে ফাঁসানো হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএনসির চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সে সময়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকার তদন্ত করেন। তদন্তে দিদারুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। দিদারুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে ২০২১ সালে ডিএনসির এই কর্মকর্তাসহ চাঁদপুরের সে সময়ের জেলা প্রশাসক কারাগারে একটি অনুষ্ঠানে যান। দিদারুলের সামনেই জেলা প্রশাসকের কাছে দিদারুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন মাদক মামলায় বন্দি থাকা কয়েকজন। অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ২০২১ সালের নভেম্বরে বদলি করা হয় হবিগঞ্জে। সেখানে লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীরা ডিএনসি মহাপরিচালকের কাছে এই অভিযোগ করার পর তাঁকে বদলি করা হয় ভোলায়। গত জুনে ফের চাঁদপুরে বদলি হয়ে আসেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দিদারুল আলম বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে আসামির পক্ষ নেওয়া ও জরিমানার টাকা নিজে পরিশোধ করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আসামি রিপন ঢালী আমার সোর্স ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন। আমার সোর্স হওয়ার পরও তাকে আটক করা হয়েছিল। আমি তার জরিমানার টাকা পরিশোধ করি।’ হবিগঞ্জের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীরা একই চালান দিয়ে দিনে দুইবার ওয়্যারহাউস থেকে মদ তুলে যেতেন। এটা ধরার পর তারা আমার বিরুদ্ধে লেগে যায়।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩
১৮৬ বার পড়া হয়েছে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: অপকর্মে মশগুল এডি দিদারুল

আপডেট সময় ০৬:০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩

‘বাঘ শাহজাহান’ বললে এক নামে চেনে চাঁদপুর শহরের মানুষ। মাদকের বড় কারবারি। তাঁর বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে দুই হাজার পিস ইয়াবা– এমন তথ্য পেয়ে গত ৫ জুলাই দলবলে হানা দেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ অভিযানের অধিনায়ক ছিলেন চাঁদপুর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (এডি) একেএম দিদারুল আলম। শাহজাহানের বাসার সামনে গিয়েই নাটকের শুরু। তাঁর বাসায় ঢুকতেই পারেনি আভিযানিক দল।

তল্লাশিতে বাদ সাধেন এডি দিদারুল! এক পর্যায়ে আভিযানিক দলের সদস্যদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি একা বাসায় ঢুকে শাহজাহান ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে দলের সদস্যদের নিয়ে চলে আসেন কার্যালয়ে। পরদিন মাদক কারবারি দম্পতির সঙ্গে ডিএনসির চাঁদপুর কার্যালয়ে একান্ত বৈঠকও করেন তিনি। ইয়াবা আছে তথ্য থাকার পরও একজন মাদক কারবারির বাসায় অভিযানে গিয়ে তল্লাশি করতে কেন নিষেধ করলেন এডি দিদারুল? এ নিয়ে সে সময় দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিদারুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পুরোনো। ২০১১ সালে ডিএনসির ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের তিনি যখন হিসাবরক্ষক ছিলেন তখন তাঁরই সহকর্মীরা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত এডি হয়ে যে জেলায় গেছেন সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মানুষকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতেও দারুণ পটু দিদারুল। সম্প্রতি চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলবে মা ও ভাইকে মাদক মামলায় ফাঁসনোর অভিযোগ তুলে দিদারুলের নামে অধিদপ্তরে নালিশ জানিয়েছেন এক তরুণী। একের পর এক অভিযোগের তীর ছোড়া হলেও কোনো সময় বড় কোনো বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে।

ইয়াবা কারবারি বাঘ শাহজাহানের মতো চাঁদপুরের বহু মাদক কারবারির সঙ্গে সখ্য এ মাদক কর্মকর্তার। অভিযোগ আছে, তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তিনি চোখ বুজে থাকেন। দিদারুলের এসব অনিয়মের চক্কর থেকে নিস্তার চান তাঁর সহকর্মীরাও। দিদারুলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে তার অধীনে থাকা পরিদর্শকসহ আট সহকর্মী সম্প্রতি ডিএনসির মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। অভিযোগকারীরা হলেন– ডিএনসির চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সেন্টু রঞ্জন নাথ, এসআই মোহাম্মদ পিয়ার হোসেন, এএসআই সাইফুল ইসলাম, সিপাই মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাজ্জাদ হোসেন ও শরীফুল ইসলাম, ওয়্যারলেস অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন এবং গাড়িচালক ওমর ফারুক রাজন। তাদের অভিযোগ, জেলার সব মাদক কারবারির সঙ্গে এডি দিদারুল আলমের রয়েছে অন্যরকম সখ্য। কারবারিদের বিষয়ে তাঁর পক্ষপাতমূলক আচরণে মাদকবিরোধী অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে।

জানতে চাইলে ডিএনসির পরিচালক (অপারেশনস ও গোয়েন্দা) মো. তানভীর মমতাজ  বলেন, ‘দিদারুলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অনুসন্ধান করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ডিএনসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানে ইয়াবাসহ রিপন ঢালী নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত রিপনকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। রিপনকে সাজা দেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান এডি দিদারুল। রিপনকে কেন আটক করা হয়েছে– এমন প্রশ্ন তুলে দিদারুল তাঁর অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই। রিপনকে নিজের সোর্স বলে পরিচয় দেন দিদারুল। এক পর্যায়ে নিজের পকেট থেকে ইয়াবা কারবারি রিপনের ওই জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। প্রকাশ্যে একজন কর্মকর্তা অপরাধীর পক্ষ নেওয়া এবং জরিমানার টাকা দেওয়া নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়।

সম্প্রতি চাঁদপুরের বড় স্টেশন এলাকায় ডিএনসির চাঁদপুরের পরিদর্শক সেন্টু রঞ্জন নাথের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে কারবারি রাজনের ঘর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করে। এ মাদক রাজন ও মিলন মজুত করে রেখেছিলেন বলে তথ্য ছিল কর্মকর্তাদের কাছে। তবে এডি দিদারুলের বাধার কারণে মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি বলে অভিযোগ আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিএনসির ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ১৪ পরিদর্শক অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ ছিল, টাকা ছাড়া তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফাইলে কাজ করেন না। বিভিন্ন বিল তুলতে কমিশন চাইতেন তিনি। পরে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে ডিএনসির নওগাঁ কার্যালয়ে যুক্ত হন। সেখান থেকে বদলি হয়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে যান চাঁদপুরে। ওই বছরের ডিসেম্বরে সদর উপজেলার চান্দা ইউনিয়নের কাপড় ব্যবসায়ী জহির মিজিকে ৪২০ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছিলেন দিদারুল। মাদক কারবারি জামাল গাজীর সঙ্গে আঁতাত করে জহিরকে ফাঁসানো হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএনসির চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সে সময়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকার তদন্ত করেন। তদন্তে দিদারুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। দিদারুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে ২০২১ সালে ডিএনসির এই কর্মকর্তাসহ চাঁদপুরের সে সময়ের জেলা প্রশাসক কারাগারে একটি অনুষ্ঠানে যান। দিদারুলের সামনেই জেলা প্রশাসকের কাছে দিদারুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন মাদক মামলায় বন্দি থাকা কয়েকজন। অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ২০২১ সালের নভেম্বরে বদলি করা হয় হবিগঞ্জে। সেখানে লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীরা ডিএনসি মহাপরিচালকের কাছে এই অভিযোগ করার পর তাঁকে বদলি করা হয় ভোলায়। গত জুনে ফের চাঁদপুরে বদলি হয়ে আসেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দিদারুল আলম বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে আসামির পক্ষ নেওয়া ও জরিমানার টাকা নিজে পরিশোধ করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আসামি রিপন ঢালী আমার সোর্স ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন। আমার সোর্স হওয়ার পরও তাকে আটক করা হয়েছিল। আমি তার জরিমানার টাকা পরিশোধ করি।’ হবিগঞ্জের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীরা একই চালান দিয়ে দিনে দুইবার ওয়্যারহাউস থেকে মদ তুলে যেতেন। এটা ধরার পর তারা আমার বিরুদ্ধে লেগে যায়।’