কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ী,গাড়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান : যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে জামাতপন্থী দুই কর্মকর্তার মহালুটপাট!
রোস্তম মল্লিক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৪০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী আতিকুর রহমান। অথচ তিনি এখন কোটি কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পত্তির মালিক। তার দেশে-বিদেশে রয়েছে অগাধ সম্পদ। আমাদের অনুসন্ধানে এইসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সূত্রগুলো জানায়, কানাডার বেগমপাড়ার বাড়ী, গাড়ী ও একাধিক ব্যবসা শুরু করেছেন পার্টনারশিপের মাধ্যমে। কিছু দিন আগে বিপুল অর্থ খরচ করে স্বপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান এই কর্মকর্তা। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কানাডায় অবস্থান করছেন। এটা কোন রূপকথার গল্প নয় বাস্তব সত্য। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদক তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে আতিকুরের বিদেশে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ করার থলের বিড়াল। এই ব্যাপারে দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিভিন্ন মহল ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রশাসক আতিকুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম (দাঃ বিঃ) পরিচালক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে নিয়োগ, পদোন্নতি বাণিজ্য করছেন। এ পথে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা এখন আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। দীর্ঘদিন থেকে জামাতপন্থী আতিকুর রহমান-পরিচালক (দাঃ বিঃ), মফিজুল ইসলাম সিন্ডিকেট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়মের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। আতিক-মফিজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি, সরকারি অর্থ লুপপাটসহ বিভিন্ন অনিয়ম অপকর্র্মের হাজারো অভিযোগ থাকার পরও অদৃশ্য কারণে এখনো রয়েছেন দুদকের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সুত্রমতে, ২০০১-২০০৪ সালে জোট সরকারের আমলে এ কে এম মফিজুর রহমান উপ-পরিচালক (প্রশাসন) থাকাকালীন সময়ে সারাদেশে ২৬ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্প ও ১৮ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প যার দায়িত্ব ছিলেন এ কে এম মফিজুর রহমান। সে সময় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে যা দুনীতি দমন কমিশন তদন্ত করে তার প্রমাণ পায় এবং তৎকালীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপ-পরিচালক এ কে এম মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে। চাকরিচ্যুত হন মহাপরিচালক। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান সেই সময়ের উপ-পরিচালক এ কে এম মফিজুর রহমান।
সূত্রে আরো জানা গেছে, পরিচালক (দাঃবি) মফিজুল ইসলাম ও তার ক’জন সহযোগী ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রকল্পের টাকা লুটপাট করে তিনি ও তার কজন সহযোগী এখন কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পত্তির মালিক। মফিজুল ইসলামের রাজধানীতে রয়েছে ৫/৬টি বাড়ী, অভিজাত এলাকাসহ রাজধানীতে ৬টি ফ্ল্যাটসহ দোকান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চীনে অর্থ পাচার করে সেখানে নামে বেনামে খুলেছেন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত বিএনপি সরকারের আমল থেকে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের চলমান ক্ষমতা পর্যন্ত জামাতে ইসলামীপন্থী, স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের দোসর মফিজুল ইসলাম দোর্দন্ড প্রতাগের সাথে ঘুষ, দুর্নীতি, পদোন্নতি নিয়োগসহ নানান অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে কলংকিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করেন বিভিন্ন মহল।
এই দুর্নীতিবাজ মফিজ-আতিক সিন্ডিকেটের খুটির জোর কোথায়? তাদের পিছনে কারা। শত দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরেও তারা বহাল তবিয়তে কেন? যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাতপন্থী আতিকুর রহমান (উপ পরিচালক প্রশাসন), মফিজুল ইসলাম, পরিচালক (দাঃ বিঃ) সিন্ডিকেটের ঘুষ, দুর্নীতি, নিয়োগ পদোন্নতি বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মের বিষয়ে জানার পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা হতাশ। তাদের প্রশ, এরা কি আইনের উর্ধ্বে?
সম্প্রতি ও বিগত দিনে কয়েকটি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে শত কোটি টাকার বেশী হাতিয়ে নেন চক্রটি। মফিজ-আতিক যাদের এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো তারা এখন কোটি কোটি টাকা ও দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পদের মালিক। তাই বিভিন্ন মহল ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী উল্লেখিত ব্যক্তি ও তাদের দোসরদের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক।
অন্যদিকে আরো জানা গেছে, পূর্বে অত্র অধিদপ্তরে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উক্ত চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে বদলি করা হয়। বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। সম্প্রতি ১০৮০ জন কর্মচারীকে প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানন্তর করার নামে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও অধিদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ১০ (দশ) কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকা তার নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। শুধু তাই নয়, ১১৬ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদোন্নতির নামে জন প্রতি ২ (দুই) লক্ষ টাকা করে নেন। এখান থেকেও হাতিয়ে নেয় কয়েক কোটি টাকা। অফিস সহায়ক ১০৪ জনকে ক্যাশিয়ার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদোন্নতির দেওয়ার নামে জন প্রতি ১ (এক) লক্ষ টাকা করে নেন। যাদের অনেকেরই কম্পিউটার চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। ১০৮ জন ওআইডিকে এডি পদে পদোন্নতি দেবার নাম করে জন প্রতি ৩ (তিন) লক্ষ টাকা করে নেন।
অন্যদিকে কিছু দিন আগে প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীর নিকট থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দেওয়ার কথা বলে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা করে নেন আতিক-মফিজ সিন্ডিকেট। এই পরীক্ষা থেকেও ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে নেন কয়েক কোটি টাকা যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপরস্থ ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে আতিক গং। এই বিষয়ে টাকা উত্তোলনের অডিও আমাদের হাতে রয়েছে।
এ ছাড়া ২৬ যুব প্রশিক্ষণ নির্মাণ প্রকল্প এবং ১৮ যুব প্রশিক্ষন নির্মাণ প্রকল্পে মাত্র ৮টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। মো: আতিকুর রহমান ২৬ টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জনবল রাজস্ব খাতে পদায়নের জন্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে জানা যায়। সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ১৮ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে নামে বেনামে প্রচুর সম্পদ গড়েছেন। এছাড়াও ১৩ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে উচ্চমান সহকারী শিবলীর মাধ্যমে আতিকুর রহমান ১ কোটি ৫০ লাখ অগ্রিম ঘুস গ্রহন করেছেন যার অডিও ক্লিপ আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সহায়তায় উচ্চমান সহকারী শিবলী লক্ষীবাজারে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন বলে জানা যায়
দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগে সম্প্রতি হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে চাকরি প্রার্থীরা টাকা ফেরত চাহিলে নানা তাল বাহানা শুরু করেন আতিকুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম সিন্ডিকেট।
এই বিষয় আতিকুর রহমান ও মফিজুল ইসলামের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।











