০৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুদকের জালে চট্টগ্রামের ১২ পুলিশ দম্পতি

প্রতিনিধির নাম:

দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড়চূড়ায় উঠে ফেঁসে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের ১২ পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তাঁরা একা ফাঁসেননি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন পুলিশ কর্তাদের অর্ধাঙ্গীরাও। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে গত শনি ও সোমবার আরও দুই পুলিশ দম্পতির নামে তিনটি মামলা ঠুকেছে দুদক। এ নিয়ে ‘কোটিপতি’ পাঁচ পুলিশ দম্পতির নামে মামলা করল সংস্থাটি। আরও ছয় পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের দালিলিক তথ্য-প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসায় তাঁদের নামেও মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর ঢাকায় বদলি হওয়ায় তাঁর প্রাথমিক তদন্তের সব নথি দুদকের ঢাকা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার বছর ধরে অনুসন্ধান করছিল দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগরের ১২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে নামে দুদক। এর মধ্যে নগরী ও জেলায় ৯ জন ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনজন ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন তাঁরা। ১২ কর্মকর্তা ও তাঁদের স্ত্রীদের সম্পদ বিবরণীও যাচাই করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মেলে। তাঁদের স্ত্রীদের নামেও কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-উপাত্তের রেকর্ড সংস্থাটির হাতে রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় গত শনি ও সোমবার সাবেক সহকারী কমিশনার এ বি এম শাহাদাত হোসেন মজুমদার ও ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম চৌধুরী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর আগে ট্রাফিক পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম, ওসি মো. শাহজাহান ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। ওসি প্রদীপের মামলায় স্বামী-স্ত্রীর সাজা হলেও নজরুল, শাহজাহান দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে নগরের কোতোয়ালি থানার ‘মহ’ ও ‘জসি’ আদ্যাক্ষরের সাবেক দুই ওসি, পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি ‘কাশে’ ও ‘আল’ আদ্যাক্ষরের সাবেক দুই ওসি, বন্দর থানার ‘ম’ আদ্যাক্ষরের সাবেক ওসি, পাহাড়তলী থানার ‘রণ’ আদ্যাক্ষরের সাবেক ওসি ও বোয়ালখালী থানার ‘শাম’ আদ্যাক্ষরের সাবেক ওসির নামে মামলা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য কমিশনের অনুমতি চেয়ে প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য-স্মারকও দাখিল করেছেন। তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় নানা সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী ইয়াবা কারবারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ দুদক কর্মকর্তা বলেন, আরও পাঁচ-ছয়জন বর্তমান ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। অনুমতি পেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩
৪৪৭ বার পড়া হয়েছে

দুদকের জালে চট্টগ্রামের ১২ পুলিশ দম্পতি

আপডেট সময় ০৮:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩

দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড়চূড়ায় উঠে ফেঁসে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের ১২ পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তাঁরা একা ফাঁসেননি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন পুলিশ কর্তাদের অর্ধাঙ্গীরাও। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে গত শনি ও সোমবার আরও দুই পুলিশ দম্পতির নামে তিনটি মামলা ঠুকেছে দুদক। এ নিয়ে ‘কোটিপতি’ পাঁচ পুলিশ দম্পতির নামে মামলা করল সংস্থাটি। আরও ছয় পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের দালিলিক তথ্য-প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসায় তাঁদের নামেও মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর ঢাকায় বদলি হওয়ায় তাঁর প্রাথমিক তদন্তের সব নথি দুদকের ঢাকা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার বছর ধরে অনুসন্ধান করছিল দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগরের ১২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে নামে দুদক। এর মধ্যে নগরী ও জেলায় ৯ জন ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনজন ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন তাঁরা। ১২ কর্মকর্তা ও তাঁদের স্ত্রীদের সম্পদ বিবরণীও যাচাই করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মেলে। তাঁদের স্ত্রীদের নামেও কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-উপাত্তের রেকর্ড সংস্থাটির হাতে রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় গত শনি ও সোমবার সাবেক সহকারী কমিশনার এ বি এম শাহাদাত হোসেন মজুমদার ও ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম চৌধুরী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর আগে ট্রাফিক পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম, ওসি মো. শাহজাহান ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। ওসি প্রদীপের মামলায় স্বামী-স্ত্রীর সাজা হলেও নজরুল, শাহজাহান দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে নগরের কোতোয়ালি থানার ‘মহ’ ও ‘জসি’ আদ্যাক্ষরের সাবেক দুই ওসি, পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি ‘কাশে’ ও ‘আল’ আদ্যাক্ষরের সাবেক দুই ওসি, বন্দর থানার ‘ম’ আদ্যাক্ষরের সাবেক ওসি, পাহাড়তলী থানার ‘রণ’ আদ্যাক্ষরের সাবেক ওসি ও বোয়ালখালী থানার ‘শাম’ আদ্যাক্ষরের সাবেক ওসির নামে মামলা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য কমিশনের অনুমতি চেয়ে প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য-স্মারকও দাখিল করেছেন। তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় নানা সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী ইয়াবা কারবারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ দুদক কর্মকর্তা বলেন, আরও পাঁচ-ছয়জন বর্তমান ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। অনুমতি পেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে।