ফেঁসে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক: রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তে নথিপত্র তলব করেছে দুদক
রোস্তম মল্লিক
রাজধানী উন্নয়ণ কর্তৃপক্ষ ( রাজউকের) পূর্বাচল প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ প্রকল্পের কিছু নথিপত্র তলব করে রাজউকের চেয়ারম্যানকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। গত ১৬/৪/২০২৩ইং তারিখে দুদকের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.৫০১.০১.১৩০.১৮/১৪৬৮৫ মূলে এ পত্র প্রদান করা হয়েছে।
এ দিকে দুদক এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেয়ে সেটি অনুসন্ধানের জন্য ৩ সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে। টিমের সদস্যরা হলেন:পরিচালক প্রবীর কুমার দাস,মো: সহিদুর রহমান ও সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
অনুসন্ধানের জন্য এই প্রকল্পের যেসব নথি চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: ১.পূর্বাচল প্রকল্পের ইছাপুর মৌজা এবং কামতা-হাড়ারবাড়ি-রঘুনাথপুর মৌজার মাটি ভরাট সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি। ২. পূর্বাচল প্রকল্পের পিডি উজ্জল মল্লিক দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ের লেক, মাটি ভরাট, উর্ধ্ব রাস্তা নির্মাণ,এবং উর্ধ্ব ড্রেন নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্রও ৫ নং সেক্টরের লেক ভরাট সংক্রান্ত নথিপত্রের সত্যায়িত কপি। ৩. পূর্বাচল প্রকল্পের ওয়াটার সাপ্লায় এর বরাদ্দ ও ব্যয় সংক্রান্ত সমস্ত নথি। ৪. ফুর্বাচল প্রকল্পের লে-আউট কতবার সংশোধন হয়েছে সে সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি ও বিস্তারিত তথ্য। ৫. প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিকের নামে পূর্বাচল প্রকল্প হতে কতগুলো প্লট বরাদ্দ পেয়েছে এবং প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত নথি। ৬.রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক পূর্বাচল প্রকল্পে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। ৭. ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং হতে ডিপিএম পদ্ধতিতে মালামাল ক্রয়ের সকল ওয়ার্ক অর্ডার,বিল পরিশোধ সংক্রান্ত সকল বিল ভাউচার ও এবং এ বিষয়ে কোন তদন্ত সংগঠিত হয়েছে কি না সে সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র এবং তদন্ত প্রতিবেদন (যদি থাকে)। ৮. পূর্বাচল প্রকল্পে শিকদার গ্রুপের অনুকুলে বরাদ্দকৃত প্লট সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
এ দিকে একাধিক সুত্রের দাবী: দুদকের এই তদন্তে ফেঁসে যেতে পারেন প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক। কেন না তিনিই এই প্রকল্পের পিডি ছিলেন। তখন তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেন। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ ও প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানী টিমের প্রধান পরিচালক প্রবীর কুমার দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,আমরা নথিপত্র চেয়েছি। সেগুলো হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।











