০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামিজা ইয়াসমিনের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত দাবী

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

নারায়ণগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কামিজা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি আর মাত্র ২ মাস পরেই তিনি পিআরএলএ গমন করবেন। তাই চাকরী জীবনের এই শেষ সময়ে এসে অনিয়ম-দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
একেরপর এক ভূয়া বিল ভাউচারে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রায় একডজন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, তিনি প্রায় ৩/৪ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জ অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এই সময়ে তিনি তার ইচ্ছা খুশিমত অফিসে আসা যাওয়া করেন। নিয়মিত তাকে অফিসে পাওয়া যায়না । ফলে সেবা নিতে আসা মহিলারা হয়রানির শিকার হন। সরকারি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন।
অধ:স্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সাথে তিনি সব সময়ই অশোভন আচরণ করেন। ঘুস ছাড়া তিনি কোন কাজই করেন না। যেমন:
১.স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ কর্মসুচির প্রশিক্ষণ না দিয়েই তিনি পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
২.বিভিন্ন প্রশিক্ষণের কর্মসুচির আওতায় সারাবছর কাচামাল ও বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেন।
৩. কর্মজীবি ল্যকটেটিং মায়েদের জন্য হেলথ ক্যাম্পের আয়োজনে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করেন।
৪. ঘুসের বিনিময়ে অকার্যকর নিবন্ধিত সমিতিকে প্রতি বছর অনুদানের জন্য হেড অফিসে সুপারিশ পাঠান। এতে করে অকার্যকর সমিতি অনুদান পেয়ে যায়। পরে এই টাকা তিনি ভাগ করে নেন। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়।
৫. জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ৫ টি ট্রেডে ৪টি সেশনের মাধ্যমে মোট ৪০০ বেকার মহিলার প্রশিক্ষণ বাবদ (দৈনিক ভাতা ১০০/-টাকা) বিশ লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে নির্বাচিত অর্ধেক মহিলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে না। আবার যারা প্রশিক্ষনে আসে তারা সবাই নিয়মিত থাকে না। কিন্তু এই দুর্নীতিবাজ উপ-পরিচালক কামিজা ইয়াসমিন তার দোসর একাউন্টটেন্ট সোলাইমান এর সহযোগিতায় উপস্থিত – অনুপস্থিত সকল প্রশিক্ষনার্থীর পুরো অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করছেন।
এছাড়া প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য সরকার যে কাঁচামালের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে সেটাও তিনি প্রশিক্ষণে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেন। তার বাজে ব্যবহারের কারনে প্রশিক্ষকরা সবাই নিশ্চুপ থাকেন। প্রতি মুহূর্তে প্রশিক্ষকদের চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন।
উপপরিচালকের নির্দেশে বেকার প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে ঢিমেতালে চলছে পাঁচটি ট্রেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার এই অনিয়ম শুরু হয়েছে যা পাঁচ বছর ধরে চলছে।
তার দুর্নীতির কথা সবারই জানা । কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। পাঁচটি ট্রেডের অনুমোদিত তালিকার প্রশিক্ষনার্থীদের ফোন দিলে অথবা একাউন্টস অফিসে যে প্রশিক্ষণার্থী ভাতা বিল সাবমিট করা হয় তা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
৭.উল্লেখ্য,চালাকি করে দুটি হাজিরা রেজিস্ট্রার ও দুটি ভাতা প্রদান রেজিস্টার রাখা হয়। যাতে তদন্ত আসলে আসলটা সহজেই লুকিয়ে ফেলা যায়।
৮.মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত অকার্যকর সমিতিগুলোকে ঘুষের বিনিময়ে প্রতিবছর সরকারি অনুদানের জন্য সুপারিশ পাঠিয়ে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় করছেন এই দুর্নীতিবাজ উপ-পরিচালক কামিজা ইয়াসমিন।
অকার্যকর কয়েকটি সমিতির নাম: ১. সূর্যমুখী মহিলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ১৬৯ বিডি রোড, নারায়ণগঞ্জ। ২. পশ্চিম দেওভোগ নারী কল্যাণ সংস্থা, পশ্চিম দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ।৩. আটিগ্রাম মহিলা কল্যাণ সমিতি, আটিগ্রাম, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ৪. মধ্য নরসিংপুর সূর্যমুখী মহিলা সংস্থা , মধ্য নরসিংপুর , ফতুল্লা ,নারায়ণগঞ্জ। ৫. সিদ্ধিরগঞ্জ মহিলা কল্যাণ সমিতি, আজিবপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ,নারায়ণগঞ্জ। ৬. গোগনগর ইউনিয়ন মহিলা সংস্থা, গোগনগর, সৈয়দপুর, কদমতলী, নারায়ণগঞ্জ। ৭. অক্ষয় নারী সংঘ,৪৩, নিউ ব্রাদার্স রোড, নারায়ণগঞ্জ। ৮. লালখা নারী উন্নয়ন সমিতি লালখা, ফতুল্লা ,নারায়ণগঞ্জ। ৯. নিগার মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ১১০, খানপুর মেইনরোড, নারায়ণগঞ্জ।
৯.তার এসব অনিয়ম দুর্নীতিতে সাহায্য করেন কর্মচারি ক্রেডিট মো: সুলাইমান, সুপার ভাইজার।
নারায়ণগঞ্জ অফিসে তার কার্যকাল সময়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মসুচির প্রতিবেদন ও ব্যয়ের ফাইলগুলো নীরিক্ষা করলেই লক্ষ লক্ষ টাকার অনিয়ম -দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে বলে দাবী করেছে একাধিক সুত্র।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক কামিজা ইয়াসমিন এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি বলেন, এই অফিসে আমার কিছু শত্রু আছে তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি যদি কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকি তবে আমার মহাপরিচালক তদন্ত করে দেখুন।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
১৯২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামিজা ইয়াসমিনের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত দাবী

আপডেট সময় ১০:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

রোস্তম মল্লিক

নারায়ণগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কামিজা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি আর মাত্র ২ মাস পরেই তিনি পিআরএলএ গমন করবেন। তাই চাকরী জীবনের এই শেষ সময়ে এসে অনিয়ম-দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
একেরপর এক ভূয়া বিল ভাউচারে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রায় একডজন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, তিনি প্রায় ৩/৪ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জ অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এই সময়ে তিনি তার ইচ্ছা খুশিমত অফিসে আসা যাওয়া করেন। নিয়মিত তাকে অফিসে পাওয়া যায়না । ফলে সেবা নিতে আসা মহিলারা হয়রানির শিকার হন। সরকারি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন।
অধ:স্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সাথে তিনি সব সময়ই অশোভন আচরণ করেন। ঘুস ছাড়া তিনি কোন কাজই করেন না। যেমন:
১.স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ কর্মসুচির প্রশিক্ষণ না দিয়েই তিনি পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
২.বিভিন্ন প্রশিক্ষণের কর্মসুচির আওতায় সারাবছর কাচামাল ও বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেন।
৩. কর্মজীবি ল্যকটেটিং মায়েদের জন্য হেলথ ক্যাম্পের আয়োজনে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করেন।
৪. ঘুসের বিনিময়ে অকার্যকর নিবন্ধিত সমিতিকে প্রতি বছর অনুদানের জন্য হেড অফিসে সুপারিশ পাঠান। এতে করে অকার্যকর সমিতি অনুদান পেয়ে যায়। পরে এই টাকা তিনি ভাগ করে নেন। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়।
৫. জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ৫ টি ট্রেডে ৪টি সেশনের মাধ্যমে মোট ৪০০ বেকার মহিলার প্রশিক্ষণ বাবদ (দৈনিক ভাতা ১০০/-টাকা) বিশ লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে নির্বাচিত অর্ধেক মহিলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে না। আবার যারা প্রশিক্ষনে আসে তারা সবাই নিয়মিত থাকে না। কিন্তু এই দুর্নীতিবাজ উপ-পরিচালক কামিজা ইয়াসমিন তার দোসর একাউন্টটেন্ট সোলাইমান এর সহযোগিতায় উপস্থিত – অনুপস্থিত সকল প্রশিক্ষনার্থীর পুরো অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করছেন।
এছাড়া প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য সরকার যে কাঁচামালের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে সেটাও তিনি প্রশিক্ষণে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেন। তার বাজে ব্যবহারের কারনে প্রশিক্ষকরা সবাই নিশ্চুপ থাকেন। প্রতি মুহূর্তে প্রশিক্ষকদের চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন।
উপপরিচালকের নির্দেশে বেকার প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে ঢিমেতালে চলছে পাঁচটি ট্রেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার এই অনিয়ম শুরু হয়েছে যা পাঁচ বছর ধরে চলছে।
তার দুর্নীতির কথা সবারই জানা । কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। পাঁচটি ট্রেডের অনুমোদিত তালিকার প্রশিক্ষনার্থীদের ফোন দিলে অথবা একাউন্টস অফিসে যে প্রশিক্ষণার্থী ভাতা বিল সাবমিট করা হয় তা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
৭.উল্লেখ্য,চালাকি করে দুটি হাজিরা রেজিস্ট্রার ও দুটি ভাতা প্রদান রেজিস্টার রাখা হয়। যাতে তদন্ত আসলে আসলটা সহজেই লুকিয়ে ফেলা যায়।
৮.মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত অকার্যকর সমিতিগুলোকে ঘুষের বিনিময়ে প্রতিবছর সরকারি অনুদানের জন্য সুপারিশ পাঠিয়ে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় করছেন এই দুর্নীতিবাজ উপ-পরিচালক কামিজা ইয়াসমিন।
অকার্যকর কয়েকটি সমিতির নাম: ১. সূর্যমুখী মহিলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ১৬৯ বিডি রোড, নারায়ণগঞ্জ। ২. পশ্চিম দেওভোগ নারী কল্যাণ সংস্থা, পশ্চিম দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ।৩. আটিগ্রাম মহিলা কল্যাণ সমিতি, আটিগ্রাম, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ৪. মধ্য নরসিংপুর সূর্যমুখী মহিলা সংস্থা , মধ্য নরসিংপুর , ফতুল্লা ,নারায়ণগঞ্জ। ৫. সিদ্ধিরগঞ্জ মহিলা কল্যাণ সমিতি, আজিবপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ,নারায়ণগঞ্জ। ৬. গোগনগর ইউনিয়ন মহিলা সংস্থা, গোগনগর, সৈয়দপুর, কদমতলী, নারায়ণগঞ্জ। ৭. অক্ষয় নারী সংঘ,৪৩, নিউ ব্রাদার্স রোড, নারায়ণগঞ্জ। ৮. লালখা নারী উন্নয়ন সমিতি লালখা, ফতুল্লা ,নারায়ণগঞ্জ। ৯. নিগার মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ১১০, খানপুর মেইনরোড, নারায়ণগঞ্জ।
৯.তার এসব অনিয়ম দুর্নীতিতে সাহায্য করেন কর্মচারি ক্রেডিট মো: সুলাইমান, সুপার ভাইজার।
নারায়ণগঞ্জ অফিসে তার কার্যকাল সময়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মসুচির প্রতিবেদন ও ব্যয়ের ফাইলগুলো নীরিক্ষা করলেই লক্ষ লক্ষ টাকার অনিয়ম -দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে বলে দাবী করেছে একাধিক সুত্র।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক কামিজা ইয়াসমিন এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি বলেন, এই অফিসে আমার কিছু শত্রু আছে তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি যদি কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকি তবে আমার মহাপরিচালক তদন্ত করে দেখুন।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল।