পরীমনি-পিয়াসার অপকর্মের বিশাল নেটওয়ার্ক
পরীমনি-পিয়াসার অপকর্মের বিশাল নেটওয়ার্ক
পাঁচজনেরদেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসছে
প্রভাবশালী ১৩ জনের বিষয়ে তথ্য * মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড ও স্পর্শকাতর মুহূর্তের ছবি জব্দ * রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে : সিআইডি
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের এক নেতার সঙ্গে পিয়াসার হোয়াটসআপ বার্তা দেখে অবাক হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদকালে সমাজের উত্তবিত্তদের কাছে উঠতি বয়সি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুন্দরী তরুণীদের ভোগের সামগ্রী বানানোর কথা স্বীকার করে তথ্য দেন পিয়াসা। তিনি জানান, এ কাজে শাকিল নামের আরেক যুবক পৃথক একটি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। তারও মূল ব্যবসা নারীদের দিয়ে ফাঁদ পেতে বাণিজ্য। গুলশান ২ নম্বর এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের আশপাশেই তার অবস্থান। তার সম্পর্কে খোঁজখ২বর নিচ্ছে সিআইডি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে-রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি, পিয়াসা ও নজরুল রাজ যাদের নাম প্রকাশ করেছেন তাদের অনেকেরই আপত্তিকর মুহূর্তের ছবি এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এদের মধ্যে দু-একজনের নগ্ন ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এ জগতে যাতায়াতকারীদের রীতিমতো ঘুম হারাম। তাদের দাম্পত্য জীবনেও শুরু হয়েছে কলহ। এরইমধ্যে পিয়াসাকাণ্ডে যাদের নাম ও ছবি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে তাদের কয়েকজন রোববার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের অফিসে একত্র হন। তারা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে করণীয় ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করেন।
সিআইডির ব্রিফিং: রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে রোববার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, শনিবার একসঙ্গে ছয় আসামির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু আলামত ও ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, পাসপোর্ট, মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ফেরারি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসাবে এ তল্লাশি অভিযান।
সিআইডির এই অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন, ‘আমরা যে মামলাগুলো তদন্ত করছি তা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত। অন্য বিষয়ে তথ্য বা অভিযোগ এলে বা থেকে থাকলেও আমরা আমলে নেব।’ সিআইডির হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে থাকা ছয় আসামির বিরুদ্ধেই মাদক রাখা ও পার্টির নামে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ভিকটিম অভিযোগ করেননি। তবে আমরা বেশকিছু ভিকটিমের নাম জেনেছি। আমরা পরীমনি ও পিয়াসাদের ব্ল্যাকমেইলের সত্যতা পেয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। কোনো ইনোসেন্ট লোক যাতে ক্ষতি বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার না হন সেটিও আমরা বিবেচনায় রেখেছি। পুরোপুরি সত্যতা ছাড়া আমরা কারও নাম ডিসক্লোজ করছি না। যদিও কিছু পত্রিকায় সিআইডির বরাতে নাম আসছে। তবে এসব তথ্য সিআইডি দেয়নি।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে ওমর ফারুক বলেন, সত্যিকারের ভিকটিমদের আমরা খুঁজছি। তাদের বক্তব্য আমরা শুনব। আমরা পুরোপুরি সত্যতার ভিত্তিতে জড়িতদের আটক করব, জিজ্ঞাসাবাদ করব। পরীমনির বাসায় তল্লাশির বিষয়ে তিনি বলেন, সেখান থেকে অনেক কিছুই জব্দ করেছি। তা ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীমনিসহ ৬ আসামির ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেবে না সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে পরীমনিসহ আমাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক আসামিকে প্রয়োজনে ফের রিমান্ড আবেদন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পরীমনির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সম্পর্কটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যতগুলো মামলা আসছে তার বেশিরভাগই মাদকসংক্রান্ত। তবে যদি অন্য কোনো বিষয় থেকে থাকে তাহলে আমরা তদন্তের মধ্যে নিয়ে আসব।











