০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ৯ দফা অভিযোগ: বিসিক চেয়ারম্যানের নিয়োগ কেলেংকারী ফাঁস!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক:

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন ( বিসিক) এর শীর্ষ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯ দফা দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। এই ৪ কর্মকর্তা একটি সিন্ডিকেট গঠন করে বিসিক প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে নানা প্রকার অনিয়ম- দুর্নীতি করে যাচ্ছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৪ কর্মকর্তা হলেন: মোস্তাক হাসান এনডিসি ,চেয়ারম্যান, ড.মো: আব্দুস ছালাম পরিচালক, আতাউর রহমান সিদ্দিকী পরিচালক,মোস্তাক আহমেদ সচিব। এদের ৪ জনের বাড়ীই বৃহত্তর ময়মনসিংহের একই এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো হল: কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই ২০তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত এবং দশম ও নবম গ্রেডে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ও জেলা কোটা উপেক্ষা করে ঘষা মাজার মাধ্যমে চেয়ারম্যানের পুত্রসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে ( ভাগিনা,ভাগ্নি,ভাই, জামাই ,ভাগ্নির দেবর,শ্যালক ,চাচাত ভাই, ও চাচাত ভাইয়ের বউ) কে

বিসিকে চাকুরী প্রদান। চেয়ারম্যানের পুত্র আহমেদ নাফিস হাসানকে স্থায়ী ঠিকানা উত্তর শাহজাহানপুর,ঢাকা দেখিয়ে চাকুরী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাবা ও ছেলের দুজনেরই প্রকৃত ঠিকানা গ্রাম: শাখুয়া,ইউনিয়ন: শাখুয়া, উপজেলা : ত্রিশাল,জেলা: ময়মনসিংহ। যার অফিস আদেশ স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০৩.১১.০১৭.১৯(অংশ -০৩)/৬২৪ তারিখ: ১২/০৩/২০২০ইং। আপন ভাগ্নি খাদিজা আক্তারকে বিসিকে নিয়োগ দিয়েছেন যার অফিস আদেশ স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০৩.১২.০১৬.১৯(২) তারিখ: ০৬/০২/২০২০ইং।

এছাড়া খাদিজার স্বামী কামরুল ও দেবরকেও চাকুরী দিয়েছেন। খাদিজাকে এ পর্যন্ত তার পছন্দমত ৫ বার বদরী করা হয়েছে। অফিস আদেশ স্মারক নং ২৭২ তারিখ: ০৬/০২/২০২০ইং। এছাড়া ক্রমিক নং ৬৯,সোহাগ মিয়া শ্যালক, ক্রমিক নং ৮০, হাকিমূল ইসলাম তার চাচাত ভাই, ক্রমিক নং ৮৮,রাজিউল হাসান তার চাচাত বোনের ছেলে। ক্রমিক নং-৯৩ আবু বক্কার ছিদ্দিক তার আপন বোনের ছেলে। অফিস আদেশ স্মারক নং -৬২৫ ক্রমিক নং-১৪ তার চাচাত ভাই। অফিস আদেশ নং ৬২৪,৬২৫,২৭১,২৭২ এর মাধ্যমে জামালপুর,শেরপুর,নেত্রকোণা,ময়মনসিংহ,কিশোরগঞ্জ জেলার ৭৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। জিএম পদে অখিল রঞ্জন তরফদারকে বিসিকের প্রবিধিমালা ভংগ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জিএম পদে নিয়োগ পেতে হলে  ডিজিএম হিসাবে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা তার নেই তবুও তাকে জিএম পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪/২/২০২০ ইং  তারিখে নিয়োগের জন্য আদেশ জারি করে পরের দিন ২৫/২/২০২০ ইং তারিখেই তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন যা একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। অতএব তার সাথে আগে থেকে দফারফা করেই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক হাসান এনডিসি’র সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন তারা তাদের যোগ্যতা বলেই বিসিকে নিয়োগ পেয়েছে। (চলবে)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২০
১৯০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ৯ দফা অভিযোগ: বিসিক চেয়ারম্যানের নিয়োগ কেলেংকারী ফাঁস!

আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২০

 

রোস্তম মল্লিক:

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন ( বিসিক) এর শীর্ষ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯ দফা দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। এই ৪ কর্মকর্তা একটি সিন্ডিকেট গঠন করে বিসিক প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে নানা প্রকার অনিয়ম- দুর্নীতি করে যাচ্ছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৪ কর্মকর্তা হলেন: মোস্তাক হাসান এনডিসি ,চেয়ারম্যান, ড.মো: আব্দুস ছালাম পরিচালক, আতাউর রহমান সিদ্দিকী পরিচালক,মোস্তাক আহমেদ সচিব। এদের ৪ জনের বাড়ীই বৃহত্তর ময়মনসিংহের একই এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো হল: কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই ২০তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত এবং দশম ও নবম গ্রেডে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ও জেলা কোটা উপেক্ষা করে ঘষা মাজার মাধ্যমে চেয়ারম্যানের পুত্রসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে ( ভাগিনা,ভাগ্নি,ভাই, জামাই ,ভাগ্নির দেবর,শ্যালক ,চাচাত ভাই, ও চাচাত ভাইয়ের বউ) কে

বিসিকে চাকুরী প্রদান। চেয়ারম্যানের পুত্র আহমেদ নাফিস হাসানকে স্থায়ী ঠিকানা উত্তর শাহজাহানপুর,ঢাকা দেখিয়ে চাকুরী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাবা ও ছেলের দুজনেরই প্রকৃত ঠিকানা গ্রাম: শাখুয়া,ইউনিয়ন: শাখুয়া, উপজেলা : ত্রিশাল,জেলা: ময়মনসিংহ। যার অফিস আদেশ স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০৩.১১.০১৭.১৯(অংশ -০৩)/৬২৪ তারিখ: ১২/০৩/২০২০ইং। আপন ভাগ্নি খাদিজা আক্তারকে বিসিকে নিয়োগ দিয়েছেন যার অফিস আদেশ স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০৩.১২.০১৬.১৯(২) তারিখ: ০৬/০২/২০২০ইং।

এছাড়া খাদিজার স্বামী কামরুল ও দেবরকেও চাকুরী দিয়েছেন। খাদিজাকে এ পর্যন্ত তার পছন্দমত ৫ বার বদরী করা হয়েছে। অফিস আদেশ স্মারক নং ২৭২ তারিখ: ০৬/০২/২০২০ইং। এছাড়া ক্রমিক নং ৬৯,সোহাগ মিয়া শ্যালক, ক্রমিক নং ৮০, হাকিমূল ইসলাম তার চাচাত ভাই, ক্রমিক নং ৮৮,রাজিউল হাসান তার চাচাত বোনের ছেলে। ক্রমিক নং-৯৩ আবু বক্কার ছিদ্দিক তার আপন বোনের ছেলে। অফিস আদেশ স্মারক নং -৬২৫ ক্রমিক নং-১৪ তার চাচাত ভাই। অফিস আদেশ নং ৬২৪,৬২৫,২৭১,২৭২ এর মাধ্যমে জামালপুর,শেরপুর,নেত্রকোণা,ময়মনসিংহ,কিশোরগঞ্জ জেলার ৭৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। জিএম পদে অখিল রঞ্জন তরফদারকে বিসিকের প্রবিধিমালা ভংগ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জিএম পদে নিয়োগ পেতে হলে  ডিজিএম হিসাবে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা তার নেই তবুও তাকে জিএম পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪/২/২০২০ ইং  তারিখে নিয়োগের জন্য আদেশ জারি করে পরের দিন ২৫/২/২০২০ ইং তারিখেই তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন যা একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। অতএব তার সাথে আগে থেকে দফারফা করেই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক হাসান এনডিসি’র সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন তারা তাদের যোগ্যতা বলেই বিসিকে নিয়োগ পেয়েছে। (চলবে)