১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়েও বহাল তবিয়তে ডাক্তার নন্দ দুলাল!

প্রতিনিধির নাম:

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় :: অধিদপ্তর ঘুমিয়ে আছে!

 

 রোস্তম মল্লিক:

একেই বলে ভাগ্য। যেখানে কোন ফৌজদারী মামলার আসামী হলেই সেই সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারিরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে । সেখানে ফৌজদারী মামলায় বিচার শেষে আদালত কর্তৃক ১ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে অফিসিয়ালি অবগত না করিয়ে দীর্ঘ প্রায় এক বছরকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলায়। আর এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির নাম ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস। তিনি সরকারী চাকুরী বিধির সকল নিয়ম কানুন ভংগ করে দুই দফায় আজ প্রায় ১১ বছর  মাগুরা মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ( একই স্টেশনে) মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন। তার এই ঘটনাটি নজিরবিহিন বলে দাবী করেছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠেছে  তার ক্ষেত্রে  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প:প: অধিদপ্তর ঘুময়ে আছে কেন?

সুত্রমতে ভুল অপরেশনের অভিযোগে মাগুরা সরকারি মাতৃ সদনের চিকিৎসক নন্দ দুলাল বিশ্বাসকে গত ৯ জানুয়ারি ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন মাগুরার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান এর আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে  এই রায় প্রদান করা হয়। তবে সাজাপ্রাপ্ত ডাক্তারের পক্ষের আইনজীবী একই আদালতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি ওয়াজেদা সিদ্দিকি জানান, ২০১২ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় ডাক্তার নন্দ দুলাল মাগুরা শহরের আরোগ্য ক্লিনিকে মাগুরা হাজিপুর গ্রামের প্রসূতি সালমা খাতুনের অস্ত্রপচারের সময় মুত্রনালি কেটে ফেলেন। ডাক্তারের ভুল অস্ত্রপচারের কারনে সালমা খাতুন পঙ্গু হয়ে গেলে তার স্বামী নুরুল হাকিম তুহিন বাদি হয়ে আদালতে (মাগুরা-জে আর-৩০০) মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত ভাবে ডাক্তার নন্দ দুলাল তার ভুল স্বীকার করেন।

পরে আদালতে সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে ডাক্তার নন্দ দুলালকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ রায় প্রদান করেন ।আসামী পক্ষের আইনজীবি কুমুদ রঞ্জন জানান, আপিলের স্বার্থে একই আদালতে আসামীর জামিন আবেদন করায় বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: জিয়াউর রহমান তা মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য মাগুরায় দীর্ঘদিন ধরে কিছুসংখ্যক অপচিকিৎসক নিয়মিতভাবে অপচিকিৎসা করে যাচ্ছে কিন্তু প্রতিবারই স্থানীয় রাজনৈতিক ভয়ভীতি ও টাকার প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ,সচিব ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মাগুরাবাসী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
১৭৮ বার পড়া হয়েছে

মাগুরায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়েও বহাল তবিয়তে ডাক্তার নন্দ দুলাল!

আপডেট সময় ১২:৪১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় :: অধিদপ্তর ঘুমিয়ে আছে!

 

 রোস্তম মল্লিক:

একেই বলে ভাগ্য। যেখানে কোন ফৌজদারী মামলার আসামী হলেই সেই সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারিরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে । সেখানে ফৌজদারী মামলায় বিচার শেষে আদালত কর্তৃক ১ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে অফিসিয়ালি অবগত না করিয়ে দীর্ঘ প্রায় এক বছরকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলায়। আর এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির নাম ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস। তিনি সরকারী চাকুরী বিধির সকল নিয়ম কানুন ভংগ করে দুই দফায় আজ প্রায় ১১ বছর  মাগুরা মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ( একই স্টেশনে) মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন। তার এই ঘটনাটি নজিরবিহিন বলে দাবী করেছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠেছে  তার ক্ষেত্রে  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প:প: অধিদপ্তর ঘুময়ে আছে কেন?

সুত্রমতে ভুল অপরেশনের অভিযোগে মাগুরা সরকারি মাতৃ সদনের চিকিৎসক নন্দ দুলাল বিশ্বাসকে গত ৯ জানুয়ারি ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন মাগুরার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান এর আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে  এই রায় প্রদান করা হয়। তবে সাজাপ্রাপ্ত ডাক্তারের পক্ষের আইনজীবী একই আদালতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি ওয়াজেদা সিদ্দিকি জানান, ২০১২ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় ডাক্তার নন্দ দুলাল মাগুরা শহরের আরোগ্য ক্লিনিকে মাগুরা হাজিপুর গ্রামের প্রসূতি সালমা খাতুনের অস্ত্রপচারের সময় মুত্রনালি কেটে ফেলেন। ডাক্তারের ভুল অস্ত্রপচারের কারনে সালমা খাতুন পঙ্গু হয়ে গেলে তার স্বামী নুরুল হাকিম তুহিন বাদি হয়ে আদালতে (মাগুরা-জে আর-৩০০) মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত ভাবে ডাক্তার নন্দ দুলাল তার ভুল স্বীকার করেন।

পরে আদালতে সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে ডাক্তার নন্দ দুলালকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ রায় প্রদান করেন ।আসামী পক্ষের আইনজীবি কুমুদ রঞ্জন জানান, আপিলের স্বার্থে একই আদালতে আসামীর জামিন আবেদন করায় বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: জিয়াউর রহমান তা মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য মাগুরায় দীর্ঘদিন ধরে কিছুসংখ্যক অপচিকিৎসক নিয়মিতভাবে অপচিকিৎসা করে যাচ্ছে কিন্তু প্রতিবারই স্থানীয় রাজনৈতিক ভয়ভীতি ও টাকার প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ,সচিব ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মাগুরাবাসী।