১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদ ওয়াসার দুই প্রকৌশলী!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

ঢাকা ওয়াসার দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের একজন ওয়াসার মড্স জোন-৮ এর সাময়িক বরখাস্ত থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী অসিম কুমার ঘোষ ও অপরজন ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার। তারা স্ত্রী ও মেয়ের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে ওয়াসার ঠিকারী কাজের নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে গোপন নথি পছন্দের ঠিকাদারের কাছে তুলে দেওয়া, ক্ষমতার অপব্যহার, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ওয়াসার নিজস্ব তদন্তে বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে। অসিম কুমার ঘোষ ও কাজী খায়ররু বাশারের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ জমা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। কমিশনের যাচাই বাছাই শাখা অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য শিগগিরই কমিশনে উপস্থাপন করবে বলে দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ জমা হয়েছে সেটা যাচাই বাছাই শাখায় আছে। কমিশনে নথি উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসিম কুমারের ঘোষের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থাকার অস্ট্রাকি গ্রামে। ঢাকায় তিনি থাকেন মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এস্টেটে। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর। তিনি ১৯৯৭ সালে সহকারী প্রকেশলী হিসেবে ঢাকা ওয়াসায় যোগ দিয়ে বর্তমানে  ৫ম গ্রেডে (২২,২৫০-৩১,২৫০) কর্মকর্তা। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যহার করে ঘুষ দুর্নীতি ও নিজের স্ত্রী ঝর্না রানী ঘোষের সহায়তায় অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অসিম ও তার স্ত্রীর ঢাকায়  ১৩টি বাড়ি ও প্লট রয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও বসুন্ধরা রিভার ভিউ প্রকল্পে ৮ টি প্লট ও আমুলিয়া গ্রীন মডেল টাউন ও কেরানীগঞ্জ তিনটি বাড়ি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাগ হাউজিং এলাকায় বাড়ি নং-১, সেকশন-২, ব্লক-ডি, নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট ওসলিমুল্লাহ রোডে ফ্ল্যাট আছে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে বাড়ি করেছে কলকাতাতেও। তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হয়ওয়া সত্ত্বেও  চাকুরির বিধিমালা লংঘন করে কন্যা প্রমি কুমার ঘোষের নামে মেসার্স প্রমি এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। যার সত্ত্বাধিকারি অসিম কুমার ঘোষের স্ত্রী ঝর্না রানী ঘোষ। এছাড়াও তার আরও একাধিক বেনামী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি পায়ারা বন্দরে ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন সাব-কন্ট্রাকে ঠিকাদারী কাজ করেন। নিজ ঠিকাদারী কাজে ব্যস্ত থেকে ঠিক মতো অফিস করেন না। তাকে সেবামূলক কাজের জন্য অফিসে গিয়ে পাওয়া যায় না। ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি  তার বিরু ওয়াসার এমডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন মিতু। সেখানে তাকে দপ্তরে না পাওয়া, এলাকার জনসাধারণের অভিযোগ না শোনা, কাউন্সিলরসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায়  ২০১৭ সালের ৪ তার বিরুদ্ধ বিভাগীয় মামলা হয়।
অনুসন্ধান ও ওয়াসার নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,  অসিম কুমার ঘোষ ঢাকা ওয়াসার মড্স জোন-৮ থেকে  ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন মেরামত ও সংস্কার কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজেই ঠিকাদারের ভূমিকায় ছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। একারনে ২০১৭ সালের ২০ জুন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘২০০৮ সাল থেকে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিল রেজিষ্ট্রিতে অসৎ উদ্দেশ্যে কার্যাদেশ নম্বর বাদ দিয়ে এন্ট্রি করে সংশ্লিস্ট ইউডিকে জোর পূর্বক বাধ্য করেন। তিনি ২-৩ ট্রাক মাটি ফেলে মেরামত ও রক্ষনা-বেক্ষনের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বিল তুলে নেন। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাম্প মেরামতের নামে বিল তুলে নেন। বিনা অনুমতিতে বিদেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও মেজারমেন্ট বহিতে স্বাক্ষর করেন। চাকুরির শৃংখলা পরিপন্থি নানা কাজের জন্য তাকে ঢাকা ওয়াসা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।’
অসিমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযোগ অনুযায়ী খিলবাড়িরটেক পানির পাম্প হাউজের বাউন্ডারী দেওয়াল ও রংয়ের কাজ করিয়ে মেসার্স শাহানা এন্ড কোং নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মেহেদী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মডস জোন-৮ এর অফিস কম্পাউন্ডের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার  টাকা, হাজীপাড়া পেট্রোল পাম্প হাউসের রক্ষণা-বেক্ষন কাজে ৯০ হাজার টাকা, মেসার্স বিপ্লব ট্রেডার্সের কাছ থেকে ওয়াসার মডস জোন-৮  সংস্কার মেরামত ও রংয়ের কাজে এক লাখ টাকা ঘুষ নেন। মডস জোন-৮ এর অফিস ভবন মেরামত, সংরক্ষণ ও রংয়ের ৪  লাখ ৭২ হাজার টাকা কাজ না করে তুলে নেন। মডস জোন-৮-এর পাম্প হাউসের মেরামত ও সংস্কারের ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, মডস জোন-৮ এর ডিএমএ স্লুইচ গেইটে বালু চেম্বার খুঁজে বের করা ও মেরামের কাজের  ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বোসান ইন্টারন্যাশালের কাছ থেকে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, মডস জোন-৮ থেকে বরিশাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার কাজে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে। অভিযোগগুলো ওয়াসার নিজস্ব তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়াও অসিম কুমার ঘোষের দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। যার একটির নম্বর ই-৮২২৮৭৫০। তিনি অপর একটি গোপন পাসপোর্টে সরকারী কর্মকর্তাহ ওয়াসত্ত্বেও কোন ধরনের জিও ছাড়া হরহামেশা দেশের বাইরে যান। ওই সময় তিনি বিপুল অংকের অর্থপাচার করেন। এরমাধ্যমে অসিম কুমার ঘোষ তার স্ত্রী ঝর্না রানী ঘোষ বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তাদের নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমান অর্থ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অসিম কুমার বলেন, এসব আমার বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র। আমি কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ষড়যন্ত্র করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অপর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারের গ্রামে খুলনা সদরের সোনাডাঙ্গার  বসুপাড়া এলাকায়। তিনি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর বাড়িটি তার। তার টিআইএন নম্বর ৫২২৯৬১৯৮২৩৫৫ কর সার্কেল-২ ঢাকা। তিনি ১৯৯৭ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা ওয়াসায় নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি থেকে ঢাকা ওয়াসায় ৫ম গ্রেডে কর্মরত থেকে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জণ করেছেন। কাজী খায়রুল বাশার স্ত্রী ইশরাত জাহান উর্মি ও মা বিলকিস আহমেদের মালিকানায় মের্সার্স ম্যাক কনসোর্টিয়াম নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খোলেন। সরকারি দপ্তরের একজন কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যহার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে তিনি ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে ৩ টি প্লটের মালিক তিনি। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে বিলাস বহুল ফ্ল্যাট ও রাজধানীর নাখাল পাড়ায় বাড়ি করেছেন। ঘুষ-দুর্নীতির টাকায় তিনি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি করেছেন। কাজী খায়রুল বাশার ও তার স্ত্রী ইশারাত জাহান উর্মির নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমান টাকার লেনদেন রয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী কাজী খায়রুল বাশারের ম্যাক কনসোর্টিয়াম ওয়াসার অন্তত ১০ শতাংশ ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তার ব্যবসায়িক পার্টনার মতিউর রহমান। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ করে  প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৮ সালে ম্যাক কনসোর্টিয়াম সর্বনিম্ন দরদাতা না হয়েও ৮টি পানির পাম্পের জন্য ২টি গ্যাস জেনারেটর সরবরাহের ১০ কোটি ৪৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়।ওয়াসার সংগ্রহ বিভাগের অধীনে ২০০ কেবিএ ডিজেল জেনারেটর ক্রয়ের নিমিত্তে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার কাজ করে  ম্যাক কনসোর্টিয়াম।ওয়াসার বিভিন্ন আকৃতির মিটার ক্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ম্যাক কনসোর্টিয়াম। ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগের জন্য ২৫ কিউসেকের পানির পাম্প সরবরাহের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি।তারা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড়বড় পানির পাম্প স্থাপন ও সরবরাহে অপর ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে দুই থেকে তিন গুন দাম হাতিয়ে নেয় এই প্রতিষ্ঠান। ঢাকা ওয়াসার পয়:নির্মান ও ড্রেনেজ বিভাগের আওতায় ডাম্পিং ট্রাক সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ম্যাক কনসোর্টিয়াম। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পুরো রাজধানীতে ম্যানহোলের জন্য নিম্নমানের প্লাস্টিকের ঢাকনা সরবরাহ করে। আগে ওয়াসার ম্যানহোলের ঢাকনা ছিল স্টেইনলেস স্টীলের বা ইস্পাতের তৈরি মজবুত।
সেগুলোর পরিবর্তে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে অত্যন্ত নিম্নমানের প্লাস্টিকের ঢাকনা দেওয়া হয়। যা সরবরাহ শুরু হয় ২০০৯ সালে। এসব নিম্নমানের ঢাকনা সহজেই ভেঙ্গ পড়ায় ম্যানহোলের গর্তে পড়ে বহুমানুষ হতাহত হন। আর এসবের জন্য দায়ী ছিলেন কাজী খায়রু বাশার ও তার পারিবারিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক কনসোর্টিয়াম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজী খায়রুল বাশার নিজ ঠিকাদারী কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ঠিক ভাবে অফিসে সময় দেন না। তিনিরা জনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঊর্ধ্বতন ও অধস্তনদের সঙ্গে অশালীণ আচরণ করেন।তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই বিভাগীয় মামলা করে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর  কাজী খারুলবাশারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন ওয়াসার এমডি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক একেএম সহিদ উদ্দিন একটি এইচডিডি মেশিন বিনাঅনুমতিতে গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে চান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারের কাছে। তিনি উত্তেজিত হয়ে প্রকল্প পরিচালককে গালিগালাজ করেন এবং রাগান্বিত স্বরে হাতে থাকা ফাইল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে রাখা নথি পত্র প্রকল্প পরিচালকের মুখেছুঁড়ে মেরে তাকে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। টেবিল চাপড়িয়ে প্রকল্প থেকে পরিচালককে বিদায় করার হুমকি দেন।
এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের অভিযোগের পর ওয়াসার একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাজী খায়রুল বাশার ঢাকা এনভয়ারমেন্ট সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের জিডাইন বুইলড অপারেট প্যাকেজে দাখিল করা চুড়ান্ত যান্ত্রিক ইভ্যুলেয়েশন কালে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তিনি প্রকল্পের পরিচালকসহ অন্যদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নিজেই অবজারভেশন নথি তৈরি করেন। তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে অন্য ঠিকাদারের গোপন নথি তুলে দেন। এবিষয়ে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবিও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। পরে ওয়াসার এক চিঠিতে তাকে বলা হয় ঠিকাদারের কাছে তথ্য পাচারের কাজগুলো ছিল এডিবির এন্টি করাপশন পলিসি ও ন্যায়পরায়ণতা নীতিমালা বিরোধী। চিঠিতে আরও বলা হয়, কাজী খায়রুল বাশার দরপত্রে অংশ নেওয়া মূল্যায়ণ প্রতিবেদন বিডার-১ এর নথি বিডার-৭-এর হাতে তুলে দেন।  এতে প্রতিয়মানসহ উক্ত বিডারের সঙ্গে যোগসাজস ছিল। এতে প্রকল্পটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিনিময়ে তিনি ঠকাদারের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ নেন।
ঘুষ দুর্নীতির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মধ্যে প্রাপ্ত অর্থ কাজী খায়রুল বাশার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। তিনি মালয়েশিয়া ররাজধানী কুয়ালালামপুরে সেকেন্ড হোম তৈরি করছেন। তার গ্রামের বাড়ি  খুলনার সোনাডাঙ্গায় বিপুল পরিমান জমিজমা ক্রয় করেছেন। এছাড়া গাজীপুরের  শ্রীপুর থানার মাওনা চৌরাস্তা মূল সড়কের পাশে ১৪ বিঘা বাণিজ্যিক জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি বাগান বাড়ি ও মাছের ঘের করেছেন। এই জমির বিষয়টি তার আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই। তার আয়করে আশুলিয়ায় ২২ শতাংশ জমি ও খুলনার বাটিয়াঘাটার মাথা ভাঙ্গা মৌজায় ১ একর ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া আয়করে দেখানো আছো কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী খায়রুল বাশার বলেন, ম্যাক কনসোর্টিয়ামের নথিপত্রে আমার নাম নেই। ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন যোগসাজকের বিষয়টিও সঠিক নয়। আমি সৎভাবে জীবন যাপন করি। আমার আয়কর সমুদয় সম্পদের বিষয়ে দেওয়া আছে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
১৯০ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদ ওয়াসার দুই প্রকৌশলী!

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

রোস্তম মল্লিক

ঢাকা ওয়াসার দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের একজন ওয়াসার মড্স জোন-৮ এর সাময়িক বরখাস্ত থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী অসিম কুমার ঘোষ ও অপরজন ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার। তারা স্ত্রী ও মেয়ের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে ওয়াসার ঠিকারী কাজের নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে গোপন নথি পছন্দের ঠিকাদারের কাছে তুলে দেওয়া, ক্ষমতার অপব্যহার, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ওয়াসার নিজস্ব তদন্তে বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে। অসিম কুমার ঘোষ ও কাজী খায়ররু বাশারের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ জমা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। কমিশনের যাচাই বাছাই শাখা অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য শিগগিরই কমিশনে উপস্থাপন করবে বলে দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ জমা হয়েছে সেটা যাচাই বাছাই শাখায় আছে। কমিশনে নথি উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসিম কুমারের ঘোষের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থাকার অস্ট্রাকি গ্রামে। ঢাকায় তিনি থাকেন মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এস্টেটে। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর। তিনি ১৯৯৭ সালে সহকারী প্রকেশলী হিসেবে ঢাকা ওয়াসায় যোগ দিয়ে বর্তমানে  ৫ম গ্রেডে (২২,২৫০-৩১,২৫০) কর্মকর্তা। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যহার করে ঘুষ দুর্নীতি ও নিজের স্ত্রী ঝর্না রানী ঘোষের সহায়তায় অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অসিম ও তার স্ত্রীর ঢাকায়  ১৩টি বাড়ি ও প্লট রয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও বসুন্ধরা রিভার ভিউ প্রকল্পে ৮ টি প্লট ও আমুলিয়া গ্রীন মডেল টাউন ও কেরানীগঞ্জ তিনটি বাড়ি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাগ হাউজিং এলাকায় বাড়ি নং-১, সেকশন-২, ব্লক-ডি, নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট ওসলিমুল্লাহ রোডে ফ্ল্যাট আছে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে বাড়ি করেছে কলকাতাতেও। তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হয়ওয়া সত্ত্বেও  চাকুরির বিধিমালা লংঘন করে কন্যা প্রমি কুমার ঘোষের নামে মেসার্স প্রমি এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। যার সত্ত্বাধিকারি অসিম কুমার ঘোষের স্ত্রী ঝর্না রানী ঘোষ। এছাড়াও তার আরও একাধিক বেনামী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি পায়ারা বন্দরে ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন সাব-কন্ট্রাকে ঠিকাদারী কাজ করেন। নিজ ঠিকাদারী কাজে ব্যস্ত থেকে ঠিক মতো অফিস করেন না। তাকে সেবামূলক কাজের জন্য অফিসে গিয়ে পাওয়া যায় না। ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি  তার বিরু ওয়াসার এমডি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন মিতু। সেখানে তাকে দপ্তরে না পাওয়া, এলাকার জনসাধারণের অভিযোগ না শোনা, কাউন্সিলরসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায়  ২০১৭ সালের ৪ তার বিরুদ্ধ বিভাগীয় মামলা হয়।
অনুসন্ধান ও ওয়াসার নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,  অসিম কুমার ঘোষ ঢাকা ওয়াসার মড্স জোন-৮ থেকে  ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন মেরামত ও সংস্কার কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজেই ঠিকাদারের ভূমিকায় ছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। একারনে ২০১৭ সালের ২০ জুন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘২০০৮ সাল থেকে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিল রেজিষ্ট্রিতে অসৎ উদ্দেশ্যে কার্যাদেশ নম্বর বাদ দিয়ে এন্ট্রি করে সংশ্লিস্ট ইউডিকে জোর পূর্বক বাধ্য করেন। তিনি ২-৩ ট্রাক মাটি ফেলে মেরামত ও রক্ষনা-বেক্ষনের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বিল তুলে নেন। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাম্প মেরামতের নামে বিল তুলে নেন। বিনা অনুমতিতে বিদেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও মেজারমেন্ট বহিতে স্বাক্ষর করেন। চাকুরির শৃংখলা পরিপন্থি নানা কাজের জন্য তাকে ঢাকা ওয়াসা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।’
অসিমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযোগ অনুযায়ী খিলবাড়িরটেক পানির পাম্প হাউজের বাউন্ডারী দেওয়াল ও রংয়ের কাজ করিয়ে মেসার্স শাহানা এন্ড কোং নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মেহেদী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মডস জোন-৮ এর অফিস কম্পাউন্ডের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার  টাকা, হাজীপাড়া পেট্রোল পাম্প হাউসের রক্ষণা-বেক্ষন কাজে ৯০ হাজার টাকা, মেসার্স বিপ্লব ট্রেডার্সের কাছ থেকে ওয়াসার মডস জোন-৮  সংস্কার মেরামত ও রংয়ের কাজে এক লাখ টাকা ঘুষ নেন। মডস জোন-৮ এর অফিস ভবন মেরামত, সংরক্ষণ ও রংয়ের ৪  লাখ ৭২ হাজার টাকা কাজ না করে তুলে নেন। মডস জোন-৮-এর পাম্প হাউসের মেরামত ও সংস্কারের ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, মডস জোন-৮ এর ডিএমএ স্লুইচ গেইটে বালু চেম্বার খুঁজে বের করা ও মেরামের কাজের  ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বোসান ইন্টারন্যাশালের কাছ থেকে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, মডস জোন-৮ থেকে বরিশাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার কাজে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে। অভিযোগগুলো ওয়াসার নিজস্ব তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়াও অসিম কুমার ঘোষের দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। যার একটির নম্বর ই-৮২২৮৭৫০। তিনি অপর একটি গোপন পাসপোর্টে সরকারী কর্মকর্তাহ ওয়াসত্ত্বেও কোন ধরনের জিও ছাড়া হরহামেশা দেশের বাইরে যান। ওই সময় তিনি বিপুল অংকের অর্থপাচার করেন। এরমাধ্যমে অসিম কুমার ঘোষ তার স্ত্রী ঝর্না রানী ঘোষ বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তাদের নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমান অর্থ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অসিম কুমার বলেন, এসব আমার বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র। আমি কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ষড়যন্ত্র করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অপর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারের গ্রামে খুলনা সদরের সোনাডাঙ্গার  বসুপাড়া এলাকায়। তিনি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর বাড়িটি তার। তার টিআইএন নম্বর ৫২২৯৬১৯৮২৩৫৫ কর সার্কেল-২ ঢাকা। তিনি ১৯৯৭ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা ওয়াসায় নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি থেকে ঢাকা ওয়াসায় ৫ম গ্রেডে কর্মরত থেকে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জণ করেছেন। কাজী খায়রুল বাশার স্ত্রী ইশরাত জাহান উর্মি ও মা বিলকিস আহমেদের মালিকানায় মের্সার্স ম্যাক কনসোর্টিয়াম নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খোলেন। সরকারি দপ্তরের একজন কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যহার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে তিনি ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে ৩ টি প্লটের মালিক তিনি। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে বিলাস বহুল ফ্ল্যাট ও রাজধানীর নাখাল পাড়ায় বাড়ি করেছেন। ঘুষ-দুর্নীতির টাকায় তিনি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি করেছেন। কাজী খায়রুল বাশার ও তার স্ত্রী ইশারাত জাহান উর্মির নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমান টাকার লেনদেন রয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী কাজী খায়রুল বাশারের ম্যাক কনসোর্টিয়াম ওয়াসার অন্তত ১০ শতাংশ ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তার ব্যবসায়িক পার্টনার মতিউর রহমান। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ করে  প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৮ সালে ম্যাক কনসোর্টিয়াম সর্বনিম্ন দরদাতা না হয়েও ৮টি পানির পাম্পের জন্য ২টি গ্যাস জেনারেটর সরবরাহের ১০ কোটি ৪৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়।ওয়াসার সংগ্রহ বিভাগের অধীনে ২০০ কেবিএ ডিজেল জেনারেটর ক্রয়ের নিমিত্তে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার কাজ করে  ম্যাক কনসোর্টিয়াম।ওয়াসার বিভিন্ন আকৃতির মিটার ক্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ম্যাক কনসোর্টিয়াম। ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগের জন্য ২৫ কিউসেকের পানির পাম্প সরবরাহের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি।তারা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড়বড় পানির পাম্প স্থাপন ও সরবরাহে অপর ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে দুই থেকে তিন গুন দাম হাতিয়ে নেয় এই প্রতিষ্ঠান। ঢাকা ওয়াসার পয়:নির্মান ও ড্রেনেজ বিভাগের আওতায় ডাম্পিং ট্রাক সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ম্যাক কনসোর্টিয়াম। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পুরো রাজধানীতে ম্যানহোলের জন্য নিম্নমানের প্লাস্টিকের ঢাকনা সরবরাহ করে। আগে ওয়াসার ম্যানহোলের ঢাকনা ছিল স্টেইনলেস স্টীলের বা ইস্পাতের তৈরি মজবুত।
সেগুলোর পরিবর্তে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে অত্যন্ত নিম্নমানের প্লাস্টিকের ঢাকনা দেওয়া হয়। যা সরবরাহ শুরু হয় ২০০৯ সালে। এসব নিম্নমানের ঢাকনা সহজেই ভেঙ্গ পড়ায় ম্যানহোলের গর্তে পড়ে বহুমানুষ হতাহত হন। আর এসবের জন্য দায়ী ছিলেন কাজী খায়রু বাশার ও তার পারিবারিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক কনসোর্টিয়াম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজী খায়রুল বাশার নিজ ঠিকাদারী কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ঠিক ভাবে অফিসে সময় দেন না। তিনিরা জনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঊর্ধ্বতন ও অধস্তনদের সঙ্গে অশালীণ আচরণ করেন।তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই বিভাগীয় মামলা করে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর  কাজী খারুলবাশারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন ওয়াসার এমডি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক একেএম সহিদ উদ্দিন একটি এইচডিডি মেশিন বিনাঅনুমতিতে গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে চান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারের কাছে। তিনি উত্তেজিত হয়ে প্রকল্প পরিচালককে গালিগালাজ করেন এবং রাগান্বিত স্বরে হাতে থাকা ফাইল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে রাখা নথি পত্র প্রকল্প পরিচালকের মুখেছুঁড়ে মেরে তাকে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। টেবিল চাপড়িয়ে প্রকল্প থেকে পরিচালককে বিদায় করার হুমকি দেন।
এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের অভিযোগের পর ওয়াসার একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাজী খায়রুল বাশার ঢাকা এনভয়ারমেন্ট সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের জিডাইন বুইলড অপারেট প্যাকেজে দাখিল করা চুড়ান্ত যান্ত্রিক ইভ্যুলেয়েশন কালে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তিনি প্রকল্পের পরিচালকসহ অন্যদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নিজেই অবজারভেশন নথি তৈরি করেন। তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে অন্য ঠিকাদারের গোপন নথি তুলে দেন। এবিষয়ে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবিও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। পরে ওয়াসার এক চিঠিতে তাকে বলা হয় ঠিকাদারের কাছে তথ্য পাচারের কাজগুলো ছিল এডিবির এন্টি করাপশন পলিসি ও ন্যায়পরায়ণতা নীতিমালা বিরোধী। চিঠিতে আরও বলা হয়, কাজী খায়রুল বাশার দরপত্রে অংশ নেওয়া মূল্যায়ণ প্রতিবেদন বিডার-১ এর নথি বিডার-৭-এর হাতে তুলে দেন।  এতে প্রতিয়মানসহ উক্ত বিডারের সঙ্গে যোগসাজস ছিল। এতে প্রকল্পটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিনিময়ে তিনি ঠকাদারের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ নেন।
ঘুষ দুর্নীতির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মধ্যে প্রাপ্ত অর্থ কাজী খায়রুল বাশার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। তিনি মালয়েশিয়া ররাজধানী কুয়ালালামপুরে সেকেন্ড হোম তৈরি করছেন। তার গ্রামের বাড়ি  খুলনার সোনাডাঙ্গায় বিপুল পরিমান জমিজমা ক্রয় করেছেন। এছাড়া গাজীপুরের  শ্রীপুর থানার মাওনা চৌরাস্তা মূল সড়কের পাশে ১৪ বিঘা বাণিজ্যিক জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি বাগান বাড়ি ও মাছের ঘের করেছেন। এই জমির বিষয়টি তার আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই। তার আয়করে আশুলিয়ায় ২২ শতাংশ জমি ও খুলনার বাটিয়াঘাটার মাথা ভাঙ্গা মৌজায় ১ একর ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া আয়করে দেখানো আছো কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী খায়রুল বাশার বলেন, ম্যাক কনসোর্টিয়ামের নথিপত্রে আমার নাম নেই। ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন যোগসাজকের বিষয়টিও সঠিক নয়। আমি সৎভাবে জীবন যাপন করি। আমার আয়কর সমুদয় সম্পদের বিষয়ে দেওয়া আছে।