প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন ১৪ দলের মুখপাত্র
সদ্য প্রয়াত ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে। নেতাকর্মীরা দলের উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য, প্রেসিডিয়ামের দুই সদস্য এবং আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির কয়েক নেতাকে নিয়েও আলোচনা করছেন। এ ছাড়া ১৪ দলীয় শরিক দলের একজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
শীর্ষ নেতারা বলছেন, বিষয়টি একেবারেই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যখন মনে করবেন তখনই ১৪ দলের মুখপাত্রের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অসার পর ১৪ দলের শরিকদেরও পুরস্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মন্ত্রী করেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াকে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুও মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। আন্দোলনের মিত্র থেকে ১৪ দলের শরিকরা সরকারের অংশীদার হয়ে পড়ে। পুরো সময়টাতে শক্ত হাতে জোটের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন মোহাম্মদ নাসিম।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তারা হলেন- উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরীর নাম।
আবার অনেকে বলছেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানের নাম।
এদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের নাম। শরিকদের কেউ কেউ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নামও উচ্চারণ করছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বুধবার (১৭ জুন) জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৪ দলের মুখপাত্র আমাদের কাছে এখন মুখ্য বিষয় নয়, দেশের মানুষ মরছে, এ সময় মুখপাত্রের বিষয়টি কী খুব জরুরি? নির্বাচন ছাড়া ১৪ দলের কী কোনো ভূমিকা ছিল? দেশের মানুষ যখন মারা যাচ্ছে এমন দুঃসময়ে ১৪ দলের মুখপাত্র নিয়ে আপনারা এতো ইন্টারেস্টেড কেন? আবার যখন নির্বাচন আসবে তখন ১৪ দলের প্রয়োজন হবে। আর মুখপাত্রের বিষয়টি ঠিক করবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। কোনো আলোচনাও হয়নি আমাদের সঙ্গে। এ বিষয়ে সম্পূর্ণ এখতিয়ার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার’।

















